থাইল্যান্ড উপকূলে কন্টেইনারসহ জাহাজডুবি, ১৬ বাংলাদেশি নাবিক উদ্ধারহজের ভিসা দেওয়া শুরু আজআজ ইশতেহার ঘোষণা করবে এবি পার্টিআজ মাঠে নামছেন ১০৫১ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটঢাকার কোন দুটি আসন অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, জানাল সেনাবাহিনী
No icon

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আরও ৮৩ ফিলিস্তিনি নিহত

ইসরায়েলি হামলায় ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে আরও অন্তত ৮৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় চিকিৎসা কর্মকর্তারা। এর মধ্যে ৮ জন শিশুসহ আরও মানুষ অনাহার ও অপুষ্টিতে মারা গেছেন।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ইসরায়েলি হামলায় নিহতদের মধ্যে ৫৮ জনই ছিলেন সহায়তা প্রত্যাশী। তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমর্থনে পরিচালিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের (জিএইচএফ) খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রে যাওয়ার পথে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারান।গাজার মধ্যাঞ্চলীয় দেইর আল-বালাহ থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক হিন্দ খুদারি জানান, জিএইচএফ-এর বিতরণ কার্যক্রম মে মাসে শুরু হওয়ার পর থেকে প্রতিদিনই একই ঘটনা ঘটছে। ফিলিস্তিনিরা খাবারের আশায় কেন্দ্রে যাচ্ছেন, আর ইসরায়েলি বাহিনী গুলি চালাচ্ছে। উত্তর গাজার জিকিম ক্রসিংয়ের কাছে একটি সহায়তা বিতরণ কেন্দ্র থেকে আল-শিফা হাসপাতালে আনা আহতদের সংখ্যা অনেক বেশি। তাদের শরীরের যেসব অংশে গুলি লেগেছে তা চিকিৎসার জন্য অত্যন্ত জটিল। অনেকের মাথা, গলা, বুকেও গুলি লেগেছে।

জাতিসংঘ ও অন্যান্য মানবিক সংস্থা জিএইচএফ-এর কার্যক্রম ও এর আশপাশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির কড়া সমালোচনা করেছে। তারা বলেছে, এই সংস্থা পর্যাপ্ত সহায়তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এ পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে খাদ্য সহায়তার আশায় থাকা ১৫৬০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।এদিকে আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, গাজায় বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে দুর্ভিক্ষ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।৭৫ বছর বয়সী সালিম আসফুর বলেন, আমি কয়েক মাস ধরে শুধু রুটি আর পানি খেয়ে বেঁচে আছি। আমার ওজন ৮০ কেজি থেকে এখন ৪০ কেজি হয়ে গেছে। আমার ছেলে আমাকে বাথরুমে নিতে সাহায্য করে। আমি রাফাহ থেকে খাবার আনতে কীভাবে যাব? ২০ কিলোমিটার হাঁটব কীভাবে?

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় অনাহার ও অপুষ্টিতে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে একজন শিশু রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে প্রাণ গেছে ১৮৮ জন ফিলিস্তিনির, যার মধ্যে ৯৪ জনই শিশু।