বিএনপিকে বাতি জ্বালিয়েও খুঁজে পাওয়া যায় না : কাদেরকল্যাণপুরে বস্তিতে আগুন, দগ্ধ ২করোনায় ১০০ চিকিৎসকের মৃত্যুমাস্ক ছাড়া প্রবেশ করা যাবে না সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানেশক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল তুরস্ক; নিহত ২০, আহত ৭ শতাধিক
No icon

আশুরার সওমের ইতিবৃত্ত ও তার বিধান

ইসলামের সূচনা থেকে তার পরিপূর্ণতা লাভ পর্যন্ত আশুরার সওমের বিধান এক ধরনের ছিলনা।
সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে এর যে পরিবর্তন হয়েছে তা নিম্নে তুলে ধরা হল :
১. ইসলামের সূচনাতে মক্কায় থাকাকালীন অবস্থায় রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আশুরার সওম পালন করতেন, কিন্তু অন্যকে এ সওম পালন করতে হুকুম করেননি।
২. রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মদীনাতে আগমন করলেন তিনি ইহুদীদের সওম পালন করতে দেখলেন তখন তিনি সওম পালন করলেন অন্যদের সওম পালন করতে নির্দেশ দিলেন। এমনকি যারা আশুরার দিনে আহার করেছিলেন তাদের দিনের বাকী সময়টা পানাহার থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিলেন। আর এটা ছিল হিজরতের দ্বিতীয় বছরে। কেননা তিনি হিজরতের প্রথম বছর মুহাররম মাস শেষ হওয়ার একমাস পর অর্থাৎ রবিউল আউয়াল মাসে মদীনাতে আগমন করেছিলেন।
৩. হিজরতের দ্বিতীয় বছর যখন রমজান মাসের সিয়াম ফরজ করা হল তখন আশুরার সওমের ফরজিয়্যত (অপরিহার্যতা) রহিত হয়ে গেল এবং তা মুস্তাহাব হিসেবে গণ্য হতে লাগল। অতএব বলা যায় এক বছরের জন্য এ সওম পালনের ফরজ নির্দেশ জারী হয়ে ছিল।
(ফতহুল বারী)
৪. আশুরার সওম পালন সুন্নাত। আর তার সংখ্যা হবে দুটি। মুহাররম মাসের নবম ও দশম তারিখে অথবা দশম ও একাদশ তারিখে।
উপরে যে আশুরার সওমের চারটি ইতিবৃত্ত আলোচনা করা হল তা বহু সংখ্যক সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।
এর মধ্য থেকে কয়েকটি হাদীস নিম্নে উল্লেখ করা হলঃ
'আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন জাহেলী যুগে কুরাইশরা আশুরার সওম পালন করত এবং রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও সওম পালন করতেন। যখন তিনি মদীনায় হিজরত করলেন তখন তিনি এ সওম পালন করলেন ও অন্যদের পালন করতে আদেশ দিলেন। যখন রমজান মাসের সওম ফরজ হল তখন তিনি আশুরার সওম সম্পর্কে বললেনঃ "যার ইচ্ছা আশুরার সওম পালন করবে, আর যার ইচ্ছা ছেড়ে দিবে।" বর্ণনায় : বুখারী ও মুসলিম

'মহিলা সাহাবী রবী বিনতে মুয়াওয়াজ রা. থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আশুরার দিনে ভোরে মদীনার নিকটবর্তী আনসারদের মহল্লায় খবর পাঠালেন যে, তোমাদের মধ্যে যে সওম শুরু করেছে সে যেন তা পূর্ণ করে। আর যে সওম শুরু না করে খাওয়া-দাওয়া করেছে সে যেন দিনের বাকী সময়টা পানাহার থেকে বিরত থাকে।
বর্ণনাকারী বলেন, এ কথা শোনার পর আমরা সওম পালন করলাম এবং আল্লাহর ইচ্ছায় ছোট ছেলে-মেয়েদের দিয়ে সওম পালন করালাম। আমরা তাদেরকে মসজিদে নিয়ে যেতাম। বাজার থেকে খেলনা কিনে নিতাম। যখন খাবার চাইত তখন হাতে খেলনা তুলে দিতাম, যেন তারা খাবারের কথা ভুলে গিয়ে সওম পূর্ণ করতে পারে।' বর্ণনায়ঃ মুসলিম
উপরোক্ত হাদীস দুটি দ্বারা বুঝে আসে আশুরার সওম তখন ওয়াজিব ছিল।
কতিপয় আলেমের মত হল আশুরার সওম কখনো ওয়াজিব ছিলনা। এ কথার সমর্থনে তারা দলীল হিসেবে মুয়াবিয়া রা. এর একটি হাদীস উল্লেখ করেন :
" মুয়াবিয়া রা. বলেনঃ আমি রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি তিনি বলেনঃ "এটা হল আশুরার দিন। এর সওম আল্লাহ তোমাদের উপর ফরজ করেননি। কিন্তু আমি সওম পালন করছি। তোমাদের যার কাছে ভাল লাগে সে যেন সওম পালন করে। আর যার খেতে মনে চায় সে খাওয়া-দাওয়া করতে পারে।" বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম
হাফেজ ইবনে হাজার রহ. বলেন, মুয়াবিয়া রা. এর এ হাদীস দ্বারা এটা প্রমাণিত হয় না যে, আশুরার সওম কখনো ওয়াজিব ছিল না। বরং তার কথার অর্থ এটাও হতে পারে যে, আল্লাহ তায়ালা রমজানের সওমের মত আশুরার সওম স্থায়ীভাবে ফরজ করেননি। আর আশুরার সওম যখন ফরজ ছিল তখন মুয়াবিয়া রা. ইসলাম গ্রহণ করেননি। তিনি রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সঙ্গ লাভ করেছেন হিজরতের অষ্টম বছর থেকে। তাই তিনি আশুরার সওম ফরজ হওয়ার বিষয়টি অবগত ছিলেন না। যারা হিজরতের দ্বিতীয় বছরের মধ্যে ইসলাম গ্রহণ করেছেন তারা আশুরার সওম ফরজ হওয়ার বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছেন। আর আশুরার সওম যে রমজানের সওম ফরজ হওয়ার পূর্বে ওয়াজিব ছিল এ বিষয়ে অসংখ্য সহীহ হাদীস রয়েছে। যেমন-
সাহাবী জাবের ইবনে সামুরা রা. বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আশুরার দিনে সওম পালনের জন্য আমাদের হুকুম দিতেন, উৎসাহিত করতেন, আমাদের ওয়াদা নিতেন। কিন্তু যখন রমজানের সওম ফরজ হল তখন তিনি আমাদের আদেশ দিতেন না আর আশুরার সওম পালন করতে নিষেধও করতেন না। (বর্ণনায় : মুসলিম)