কল্যাণপুরে বস্তিতে আগুন, দগ্ধ ২করোনায় ১০০ চিকিৎসকের মৃত্যুমাস্ক ছাড়া প্রবেশ করা যাবে না সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানেশক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল তুরস্ক; নিহত ২০, আহত ৭ শতাধিকম্যাক্রনের ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে ভারতে অভিনব প্রতিবাদ
No icon

ই-ভ্যালির বিরুদ্ধে তদন্তে প্রতিযোগিতা কমিশন

ব্যবসা-বাণিজ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করতে ষড়যন্ত্রমূলক যোগসাজশ, মনোপলি, ওলিগোপলি, জোটবদ্ধতা অথবা কর্তৃত্ববাদী অবস্থানের অপব্যবহার সংক্রান্ত প্রতিযোগিতা বিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ বা নির্মূলে কাজ করছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন। তাদের ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই অর্থবছরে এ কমিশনে পাঁচটি অভিযোগ পাওয়া যায় এবং কমিশন স্বপ্রণোদিত হয়ে একটি অভিযোগ গ্রহণ করে। তার মধ্যে দুটি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। মামলা দুটিতে রাওয়া ক্লাব ও চট্টগ্রাম কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্টের (সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট) বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তবে তাদের জরিমানা করেনি, আইন মানতে বাধ্য করেছে এ কমিশন। অন্যদিকে প্রতিযোগিতা কমিশন স্বপ্রণোদিত হয়ে ই-ভ্যালির বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণ করেছে।

প্রতিযোগিতা কমিশনের ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে এবং কমিশনটির চেয়ারপারসন মো. মফিজুল ইসলামের কাছ থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

রোববার (১১ অক্টোবর) ইস্কাটনে অবস্থিত প্রতিযোগিতা কমিশনে আয়োজিত এক কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান মফিজুল ইসলাম।

কর্মশালায় এক সাংবাদিক প্রশ্ন রাখেন, সাম্প্রতিক সময়ে ই-ভ্যালি নিয়ে আলোচনা চলছে। অসম প্রতিযোগিতার বিষয়টি নিয়ে আপনারা চিঠিও দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আপনাদের বিশ্লেষণটা কী?

জবাবে কমিশনটির চেয়ারপারসন মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘ই-ভ্যালি নিয়ে ইন্ডিভিজুয়াল কোনো প্রতিষ্ঠান...। আমাদের এখানে এটা পেন্ডিং ইস্যু। আমরা চিঠি দিয়েছি। এটা আমরা স্বপ্রণোদিতভাবেই করেছি। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে হলে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আপনাদের অপেক্ষা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ভোক্তা অধিকারের মতো সাথে সাথে জরিমানা, ভিডিও করে নিউজ করা, লাইভ দেখানো- এগুলো কিন্তু এখানে হবে না। এটা সিভিল ন্যাচারের মামলা। পাঁচ থেকে সাত বছরও লেগে যেতে পারে। আবার দু-এক মাসের মধ্যেও নিষ্পত্তি হয়ে যেতে পারে। শুধু আমাদের ক্ষেত্রে নয়, সারাবিশ্বেই এমনটা হয়। কারণ এখানে হাজার হাজার কোটি টাকা জরিমানা হয়ে যেতে পারে। এটা অনেক বড় ধরনের ইস্যু।’

প্রতিযোগিতা কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে কমিশনে পাঁচটি অভিযোগ পাওয়া যায় এবং কমিশন স্বপ্রণোদিত হয়ে একটি অভিযোগ গ্রহণ করে। তার মধ্যে দুটি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

এ বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘রাওয়া ক্লাব- ওদের ট্রেজারি সোর্সটা সিঙ্গেল সোর্স থেকে নেয়া হতো। আমি আসার আগে এটা হয়েছে। তারা এখন আমাদের গাইডলাইনের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে। আর অন্যটি হলো চট্টগ্রাম কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট (সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট), ওখানে তারা একটা অপরাধ করছিল আমাদের আইনের আওতায়। সেই সিদ্ধান্তটা আমরা দিয়েছি, সেটাও বাস্তবায়িত হয়েছে। আর অন্যগুলো যেহেতু অভিযোগ হিসেবে আছে, আমরা যখন রি-অ্যাকশনে যাব, তখন নিউজ করতে পারেন।’

অভিযোগের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে প্রতিযোগিতা কমিশনের সদস্য জিএম সালেহ উদ্দিন বলেন, ‘প্রতিযোগিতা আইন হয়েছে ২০১২ সালে। ২০১৬ সালের এপ্রিল থেকে প্রতিযোগিতা কমিশনের যাত্রা শুরু হয়েছে। ২০২০ সালের মার্চ থেকে পূর্ণাঙ্গ কমিশনের যাত্রা শুরু হয়েছে। অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কমিশন বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজে হাত দিয়েছে। কিছু কিছু কাজ দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।’

তিনি বলেন, ‘কমিশন ইতোমধ্যে দুটি মামলা নিষ্পত্তি করেছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শুনানি অন্তে আদেশ বাস্তবায়ন করেছে। চলতি সপ্তাহ থেকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শুনানি শুরু হচ্ছে। আরও কয়েকটি অভিযোগ শুনানির জন্য প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রতিযোগিতা আইনের আওতায় মামলা নিষ্পত্তি সময়সাপেক্ষ। মামলাগুলোকে অনেক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করতে হয়। তেমনি এই আইনে জরিমানার পরিমাণ অনেক বেশি। কোটি কোটি টাকা, হাজার কোটি টাকাও হয়ে যায় জরিমানা। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির যেন উদ্ভব না হয়, সে জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতা আইন মেনে চলার সংস্কৃতি তৈরি করা জরুরি।’

‘লিখিত অভিযোগ কিংবা অনলাইনেও অভিযোগ করা যায় প্রতিযোগিতা কমিশনে। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে প্রমাণ করবে যে তিনি অপরাধ করেননি’, সভাপতির বক্তব্যে যোগ করেছিলেন মফিজুল ইসলাম।