কল্যাণপুরে বস্তিতে আগুন, দগ্ধ ২করোনায় ১০০ চিকিৎসকের মৃত্যুমাস্ক ছাড়া প্রবেশ করা যাবে না সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানেশক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল তুরস্ক; নিহত ২০, আহত ৭ শতাধিকম্যাক্রনের ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে ভারতে অভিনব প্রতিবাদ
No icon

প্রাথমিকে অটোপাস মাধ্যমিকে মূল্যায়ন

মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বিকল্প মূল্যায়নের মাধ্যমে পরের ক্লাসে তুলে দেয়ার চিন্তা চলছে। পাঠ্যবইয়ের সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের ওপর শিক্ষার্থীদের বাড়ির কাজ দেয়া হবে। বাড়িতে থেকে তারা সেই অ্যাসাইনমেন্ট শেষ করবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিশেষ ব্যবস্থায় সেটা সংগ্রহ ও মূল্যায়ন করবে। এর ভিত্তিতেই তাদের নতুন ক্লাসে তুলে দেয়া হবে।আর প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের দেয়া হবে অটোপাস। আগের বছরের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে রোল নম্বর। করোনার প্রভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খুললেই এসব পদক্ষেপ নেয়া হবে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে প্রায় আড়াই কোটি শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত অভিভাবকরা।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মাধ্যমিকের পরিকল্পনা নিয়ে এ সপ্তাহে সংবাদ সম্মেলনে আসতে পারেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। প্রাথমিকের অটোপাসসহ অন্যান্য বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়া হবে আগামী মাসে।ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া অব্যাহত রাখতে এ ধরনের ঘোষণার আগ পর্যন্ত বিকল্প পরিকল্পনা অনুসরণ করা হবে। এতে প্রাথমিক স্তরের জন্য প্রণীত পরিকল্পনা অনুসরণ করতে বলা হবে শিক্ষকদের। আর মাধ্যমিক স্তরের পরিকল্পনা তৈরির কাজ চলছে। আগামী সপ্তাহ নাগাদ তা মন্ত্রণালয়ে পৌঁছাবে। এরপর তা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রকাশ করা হবে।প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আকরাম-আল-হোসেন যুগান্তরকে বলেন, আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি। করোনার বিদ্যমান পরিস্থিতি এবং নভেম্বরে বা এরপর সম্ভাব্য দ্বিতীয় ঢেউ থেকে জনগণকে সুরক্ষা দেয়ার কাজে সরকার বেশি তৎপর।

তাই নভেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে কিনা তা নিয়ে আমি সন্দিহান। যদি খুলে দেয়া হয় তবে ইতোমধ্যে প্রণীত পাঠ-পরিকল্পনা অনুযায়ী লেখাপড়া ও বার্ষিক পরীক্ষা নেব। আর যদি খুলে দেয়া সম্ভব না হয় সে ক্ষেত্রে অটোপাস-এর কোনো বিকল্প দেখছি না। কেননা, মূল্যায়নের নামে আমরা শিশুদের ঝুঁকিতে ফেলতে পারি না।প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক সোহেল আহমেদ জানান, বর্তমানে স্কুল খোলা বা পরীক্ষা নেয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। এজন্য শিক্ষার্থীরা বর্তমানে যে ক্লাসে আছে, তার আগের ক্লাসের বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল মূল্যায়ন করে পরের ক্লাসে তুলে দেয়ার চিন্তাভাবনা চলছে।সিনিয়র সচিব আকরাম-আল-হোসেন বলেন, পরীক্ষা নিতে না পারলে নতুন ক্লাসে ভর্তি যে আগে হবে তার রোল আগে থাকবে- এই নীতি নেয়া যায়। তবে পরের শ্রেণিতে পদোন্নতিতে আগের বছরের বা ২০১৯ সালের বার্ষিক পরীক্ষার ফল বিবেচনা নিলে বিতর্ক না হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে কী হবে সেটা আরও পরে জানানো হবে। এখনও সময় আছে।অন্যদিকে মাধ্যমিকে মূল্যায়নের জন্য জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডকে (এনসিটিবি) পরিকল্পনা তৈরি করছে। দুই নীতি সামনে রাখা হচ্ছে। একটি হচ্ছে বছরের অবশিষ্ট সময় বিবেচনায় নিয়ে যতটুকু বিষয়ের ওপর অ্যাসাইনমেন্ট বা বাড়ির কাজ দেয়া যায় সেটা রাখা হবে।অপরটি হচ্ছে, যা বাকি থাকবে এবং পরের বছরের জন্য অপরিহার্য। সেটা পরের ক্লাসে নেয়া হবে। আগামী বছর পাঠদানের আগে শিক্ষক সেটি পড়িয়ে নেবেন। এই পরিকল্পনা আগামী সপ্তাহের মধ্যে প্রণয়ন শেষে স্কুল শিক্ষকদের কাছে পাঠানো হবে।এতেই এ বছরের জন্য নির্ধারিত অংশ অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়ের নির্দেশনা থাকছে। এরপর অ্যাসাইনমেন্টে নম্বর দিয়ে শিক্ষার্থী মূল্যায়নের পাশাপাশি নতুন ক্লাসে তার রোল নম্বরও নির্ধারণ করা হতে পারে।