তিন ঝুঁকিতে বিশ্ব অর্থনীতিযুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা পাচ্ছে মিশরসবার আগে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকরোনার নতুন তাণ্ডবে ফের কাঁপছে গোটা বিশ্বক্রেডিট কার্ডে নতুন কর্মক্ষেত্র
No icon

মহামারীকালে বিশ্বে এইডস রোগীর সংখ্যা বেড়েছে

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, করোনা মহামারীকালে বিশ্বে এইডস রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। সংস্থাটি বলছে, করোনাকালে এইচআইভি আরও বেশি ওষুধপ্রতিরোধী হয়ে উঠছে। আক্রান্তদের চিকিৎসায় যে অ্যান্টি রেট্রোভাইরাল ওষুধ ব্যবহার হয়, সেটি এখন তেমন কাজ করছে না। ফলে গত এক বছরে বিশ্বে আরও ২০ লাখ মানুষ এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছেন।এমন পরিস্থিতিতে অন্যান্য দেশের মতো আজ বুধবার বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে বিশ্ব এইডস দিবস-২০২১। এবারের প্রতিপাদ্য- ইন্ড ইকুয়ালিটিস, ইন্ড এইডস, ইন্ড প্যানডেমিকস। দিবসটিউপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশে ২০১৬ সালে নতুন ৫৭৮ জন এইডস রোগী শনাক্ত হয়। ২০১৭ সালে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ৮৬৫ জনে। ২০১৮ সালে তা আরও বেড়ে ৮৬৯ এবং ২০১৯ সালে ৯১৯ জনে দাঁড়ায়। কিন্তু গত বছরের মার্চ মাসের শুরুতে দেশে করোনা মহামারী প্রতিরোধে লকডাউনসহ বিধিনিষেধের ফলে শনাক্তকরণ বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে আগের বছরের চেয়ে নতুন শনাক্ত কমে ৬৫৮ জনে নেমে আসে।সেভ দ্য চিলড্রেনের এইচআইভি এইডস কর্মসূচির তথ্যে দেখা গেছে, ২০২০ সালে করোনা দেখা দেওয়ার পর এপ্রিল-মে মাসে লকডাউন দেওয়া হয়। ওই সময় এইচআইভি পরীক্ষার পরিমাণ কমে আসে। সুইয়ের মাধ্যমে মাদকগ্রহণকারীদের ২১টি ডিআইসির মধ্যে ৫টি এবং যৌন কর্মীদের ২৯টি ডিআইসির মধ্যে ২৬টি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এর ফলে রোগীদের সেবাসমূহ যেমন, এইডস পরীক্ষা, মেথাডন এবং এন্ট্রিরেট্রাভাইরাল (এআরভি) প্রদান, ভাইরাসটি প্রতিরোধমূলক একক ও দলীয় শিক্ষা, যৌন রোগ থেকে শুরু করে অন্যান্য চিকিৎসা প্রদান বাধাগ্রস্ত হয়।

বাংলাদেশে জাতীয় এইডস/এসটিডি কন্ট্রোল প্রোগ্রাম সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশে ১৯৮৯ সালে রোগটি প্রথম শনাক্ত হয়। ধারণা করা হয়, দেশে ১৪ হাজার এইডস আক্রান্ত রোগী রয়েছেন। এর মধ্যে ২০২০ সালে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ৬০ হাজার ৪২৮ জনকে পরীক্ষার আওতায় আনা হয়। যাদের মধ্যে ১৬ হাজার ৮৭ জনের ‘কোমরবিডিটি’ ছিল। সাধারণ মানুষ ছিল ৩২ হাজার ৮০০ জন। এ ছাড়া ৮১ হাজার ২৯৯ জন গর্ভবতীসহ ৫ লাখ ২ হাজার ১৬৫ জনকে এইডস পরীক্ষা ও রক্তদানের সময় আরও ৮ লাখ ৩০ হাজার জনকে স্ক্রিনিং করা হয়।১৯৮৯ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এইডস রোগীর নিশ্চিত সংখ্যা ৮ হাজার ৩২ জন। এর মধ্যে চিকিৎসার আওতায় এসেছে ৫ হাজার ৮১ জন। মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৩৮৩ জনের। গত বছর নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ৬৫৮ জন এবং মৃত্যু হয় ১৪১ জনের। ২০২০ সালে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ১২৪ জনের শরীরে এইচআইভি পাওয়া যায়।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, ২০২০ সালে বিশ্বে এইচআইভি আক্রান্ত মানুষের আনুমানিক সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ৭৭ লাখ। গত বছর এইচআইভির কারণে ৬ লাখ ৮০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় এবং ১৫ লাখ মানুষ সংক্রমিত হয়। আক্রান্তদের ৭৩ শতাংশ অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) পেয়েছেন।জাতীয় এইডস/এসটিডি কন্ট্রোল প্রোগ্রামের প্রাক্তন লাইনডিরেক্ট অধ্যাপক ডা. শামিউল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, করোনার সময় রোগী শনাক্তে পরীক্ষা কিছুটা কম হলেও তেমন প্রভাব পড়েনি। সে সময় রোগীদের কাছে ওষুধ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এখন পরীক্ষাকেন্দ্র বাড়িয়ে ২৮টি করা হয়েছে। চিকিৎসাকেন্দ্রে সাতটি থেকে ১১টা করা হয়েছে। ৬৪ জেলায় স্ক্রিনিং সেন্টার স্থাপনের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।