যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পাল্টা জবাব হিসেবে বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বুধবারের এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের একটি স্থাপনা এবং কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসি দাবি করেছে, এসব হামলার সময় একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোনও ভূপাতিত করা হয়েছে।
হামলার পর বাহরাইন ও কুয়েতে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়। কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বৈরী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোকাবিলায় তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। তবে হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
ইরান জানিয়েছে, নিজেদের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তেহরানের সামরিক কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনাগুলো আরও বড় ধরনের হামলার মুখে পড়তে পারে।
এর আগে হরমুজ প্রণালিতে কয়েকটি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালায়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ওই অভিযানে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনা ও নৌ সক্ষমতা লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
এদিকে ইরানের সামরিক কমান্ড যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে ‘আগ্রাসন’ হিসেবে উল্লেখ করে পাল্টা প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
এই উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় কয়েকটি তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকার চলাচলের পথ পরিবর্তন করেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা