ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলায় বি-১ ল্যান্সার দূরপাল্লার বোমারু বিমান ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত শুরুর ১২ দিনের মাথায় প্রথমবারের মতো এই কৌশলগত বোমারু বিমান অভিযানে নামানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত বি-১ বোমারু বিমান দূরপাল্লার হামলা চালানোর পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ ভারী বোমা ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম। যুক্তরাজ্যের একটি বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করা এসব বিমান ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আইআরজিসির সামরিক পরিচালনা কেন্দ্র, বিমান হ্যাঙ্গার, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং রসদ সরবরাহ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের হুমকি মোকাবিলায় পরিচালিত অভিযানে এসব সামরিক স্থাপনায় সফলভাবে হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও সমুদ্রপথে সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি কমাতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এদিকে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে কোনো জাহাজে হামলা হলে ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে পাল্টা হামলা চালানো হতে পারে। বিপরীতে ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। সৌদি আরবকে ঘিরে সামুদ্রিক উত্তেজনা এবং ইয়েমেনের হুথিদের সম্ভাব্য তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে লোহিত সাগর ও বাব এল-মানদেব প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে সংঘাত প্রশমিত করা এবং হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ওমানের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে। তবে আলোচনায় এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
.অপরদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান বারবার সমঝোতার শর্ত পরিবর্তন করায় এখনো চূড়ান্তভাবে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে প্রস্তুত নয়। তবে তাঁর দাবি, ইরান খুব শিগগিরই সমঝোতায় আসতে পারে। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বি-১ বোমারু বিমান ব্যবহারের ঘটনা সংঘাতের সামরিক মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সূত্র: এক্সিওস