ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট বলেছেন, পুনরায় ক্ষমতায় ফিরতে পারলে তিনি কাতারকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শত্রু রাষ্ট্র’ ঘোষণা করবেন। তার দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে কাতার ইসরাইলের জন্য ‘ইরানের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক’।
ইসরাইলি টেলিভিশন চ্যানেল ১২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেনেট এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কাতারকে শত্রু রাষ্ট্র ঘোষণা না করা ইসরাইলের একটি ‘অমার্জনীয় ভুল’।
বেনেটের অভিযোগ, ইরান প্রকাশ্যে ইসরাইলবিরোধী অবস্থান নিলেও কাতার পরোক্ষভাবে আরও বড় হুমকি তৈরি করছে। তার ভাষ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলায় অংশ নেওয়া হামাসের নুখবা ইউনিটকে কাতার অর্থায়ন করেছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি এবং কাতারও এ ধরনের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে অস্বীকার করে আসছে।
তিনি আরও দাবি করেন, কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ইসরাইলবিরোধী প্রচারণা চালায় এবং কাতার যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছে। বেনেটের ভাষায়, কাতারের প্রভাব ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘কাতার আমাদের বিরুদ্ধে কাজ করছে এবং ভেতর থেকে আমাদের দুর্বল করার চেষ্টা করছে।’
কাতার এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। দেশটি এর আগেও হামাসকে অর্থায়ন বা সন্ত্রাসবাদে সহায়তার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দোহার দাবি, তারা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে গাজায় মানবিক সহায়তা এবং মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে।
২০২৩ সালের গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কাতার যুক্তরাষ্ট্র, মিশর ও অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে সমন্বয় করে হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মি বিনিময় আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। ফলে বেনেটের মন্তব্য নতুন করে আঞ্চলিক রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে।