ঢাকার আবহাওয়া আজ যেমন থাকতে পারেমনোনয়নপত্র বাছাই আজরাঙামাটিতে পিকআপ উল্টে নিহত ৩প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জ যাচ্ছেন আজ৬ জেলায় বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা, সতর্কতা জারি
No icon

ভিসা জটিলতায় দিল্লিতে আটক ৬ বাংলাদেশি

ভারতের সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট স্পেশাল স্টাফের ‘ফরেনার সেল’ পরিচালিত ‘অপারেশন ভিস্তা ১.০’ (ভিসা স্ট্যাটাস ভেরিফিকেশন)-এর অধীনে ৬ বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। 

রোববার (২ আগস্ট) ডাবল-এন্ট্রি ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের দায়ে তাদের আটক করা হয় বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। কর্মকর্তারা জানান, আটককৃত এই ৬ বিদেশি নাগরিক তাদের ডাবল-এন্ট্রি ভিসায় প্রতি সফরে অনুমোদিত সর্বোচ্চ ১৫ দিনের বেশি সময় ধরে ভারতে অবস্থান করছিলেন। সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের বিভিন্ন হোটেল ও গেস্টহাউসে পরিচালিত এক বিশেষ যাচাইকরণ অভিযানের সময় এই নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

তাদের পাসপোর্ট, ভিসা এবং ভ্রমণের নথিপত্র যাচাই শেষে ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসের (এফআরআরও) মাধ্যমে আইনি কার্যক্রম শুরু হয়। এফআরআরও তাদের বিরুদ্ধে ‘রেস্ট্রিকশন অর্ডার’ বা নিষেধাজ্ঞা আদেশ জারি করেছে। এরপর ওই ৬ জনকেই সেবা ধামের ডিটেনশন সেন্টারে (আটক কেন্দ্র) স্থানান্তর করা হয়েছে। দেশে ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্টেশন) প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তারা সেখানেই থাকবেন।

যেভাবে আটক হলেন তারা

বিদেশি নাগরিকদের ভিসা বিধিমালা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে চলমান প্রয়োগ অভিযানের অংশ হিসেবে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট স্পেশাল স্টাফের ফরেনার সেল এই ‘অপারেশন ভিস্তা ১.০’ শুরু করে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল দিল্লিতে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করা বা ভিসার শর্ত লঙ্ঘনকারী বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।

সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট স্পেশাল স্টাফের ইনচার্জ পরিদর্শক সন্দীপ যাদবের নেতৃত্বে এবং এসিপি (অপারেশনস) পদম সিং রানার তত্ত্বাবধানে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযান চলাকালে ফরেনার সেলের একটি দল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের বিভিন্ন হোটেল ও গেস্টহাউসে ব্যাপক তল্লাশি চালায়। নবি করিমের আরাকাশান রোডের একটি হোটেলে পরিদর্শনের সময় ওই ৬ বাংলাদেশি নাগরিককে পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে ওই ৬ জন জানান, তারা বৈধ ডাবল-এন্ট্রি ভিসায় ভারতে প্রবেশ করেছিলেন এবং মধ্য দিল্লির ‘সার্থক প্লেস’ হোটেলে অবস্থান করছিলেন। তবে তাদের পাসপোর্ট, ভিসা এবং ইমিগ্রেশন রেকর্ড যাচাই করে দেখা যায়, ওই ভিসার শর্ত অনুযায়ী প্রতিবার সর্বোচ্চ ১৫ দিন থাকার অনুমতি ছিল। কিন্তু তারা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো বৈধ অনুমোদন বা মেয়াদ বৃদ্ধি ছাড়াই এই নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হওয়ার পরও ভারতে অবস্থান করছিলেন।

সবশেষে নথিপত্র ও ইমিগ্রেশন রেকর্ড যাচাইয়ের পর এফআরআরও ভিসা লঙ্ঘন এবং ভারতে বিদেশি নাগরিকদের অবস্থান সংক্রান্ত প্রযোজ্য বিধানগুলোর অধীনে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তাদের দিল্লির সরাই রোহিল্লার শাহজাদা বাগের সেবা ধাম ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয় এবং বর্তমানে তাদের ডিপোর্টেশন বা দেশে ফেরত পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সূত্র: ইউনাইটেড নিউজ অব ইন্ডিয়া