ফ্রেশ কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৯ ইউনিটখুলনা ও বরিশাল বিভাগে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা‘ঈদের আগে পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলার অনুমতির সম্ভাবনা নেই’ডেনমার্কে শপিংমলে গুলি, কয়েকজন নিহতভোজ্যতেলে ভ্যাট সুবিধা আরও ৩ মাস
No icon

সাকিবকে পেয়ে দল চাঙ্গা

নেটের পেছনে দাঁড়িয়ে কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর কৌতূহল- কেমন লাগছে? সাকিব আল হাসানের ঝটপট উত্তর- ভালো। নেটে ২০ মিনিট ব্যাটিং হয়ে গেলে সাকিব নিজে থেকেই কোচকে বললেন- ব্যাটিং ঠিক আছে। ডমিঙ্গো যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন। দেশসেরা খেলোয়াড়কে নিয়েই খেলতে পারছেন চট্টগ্রাম টেস্ট। একাদশে একজন ব্যাটার বেশি নিয়ে খেলতে পারবে এবার। বোলিং লাইনআপও পাঁচজনে উন্নীত করা যাবে। তাই কোচের স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলা স্বাভাবিক। সবকিছু দেখে যে কারও মনে হবে, সাকিবকে পেয়ে বাংলাদেশ দল এখন সুখী পরিবার। কত দিন পর আবার সেরা দল নিয়ে টেস্ট ম্যাচ খেলতে নামছে বাংলাদেশ। এই খুশি গ্রীষ্ফ্মেও বসন্তের হাওয়া দিচ্ছে স্বাগতিক ড্রেসিংরুমে। নির্বাচক, কোচিং স্টাফ, খেলোয়াড়- সবার মধ্যেই এক ধরনের ভালো লাগা কাজ করছে। ক্রিকেটারদের মনে গুঞ্জরিত হচ্ছে ড্রেসিংরুমের প্রিয় গীত- আমরা করব জয়। সংবাদ সম্মেলনে মুমিনুল হকও দৃঢ়তার সঙ্গে বললেন, চট্টগ্রাম টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ জিততেই নামবে তার দল।উন্মুক্ত সংবাদ সম্মেলনে প্রথম প্রশ্নটাই হলো সাকিবের ফিটনেস নিয়ে। অনুশীলনে সাকিবকে ফিট দেখার পরও দলীয় সিদ্ধান্ত জানার জন্যই এই প্রশ্ন। সাকিবকে ফিট ঘোষণা করে মুমিনুল জানান, তিনি টেস্ট ম্যাচ খেলার জন্য প্রস্তুত। এক দিন আগে একই সংবাদ সম্মেলন কক্ষে ডমিঙ্গো বলেছিলেন, ৫০-৬০ ভাগ ফিট সাকিবকে চান তিনি। পুরো ফিট খেলোয়াড় নিয়ে খেলতে চান টেস্ট ম্যাচ। অধিনায়ক তাঁর সেরা খেলোয়াড়কে পুরো ফিটের সনদ দিলেন অফিসিয়াল সংবাদ সম্মেলনে।

সাকিবকে নিয়ে এরপর কারও কোনো প্রশ্ন থাকার কথা নয়। তবুও কিছু প্রশ্ন হলো প্রতিটি টেস্ট সিরিজের আগে সাকিবকে পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা ও নাটকীয়তা ইস্যুতে। সেখানেও সপাটে খেলে দেন অধিনায়ক, যতবারই সাকিব ভাই খেলতে পারেননি কোনো না কোনো কারণ ছিল। মাঝে মধ্যে উনার না খেলাও ভালো, অন্য খেলোয়াড়ের জন্য সুযোগ তৈরি হয়। সাকিবকে রেখেই নিউজিল্যান্ড সফরের দল ঘোষণা করা হয়েছিল। সে সিরিজ থেকে ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন সব্যসাচী এ ক্রিকেটার। অনেক জল ঘোলা হওয়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যেতে রাজি হলেও পারিবারিক কারণে টেস্ট খেলতে পারেননি। এবারের ঘটনা তো টাটকা। যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে ১০ মে দেশে ফিরে কভিড টেস্ট দিলে করোনা পজিটিভ হন। বিসিবি অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রথম টেস্টের দল থেকে বাদ দেয় তাকে। তিন দিন যেতে না যেতেই করোনা নেগেটিভ হয়ে শুক্রবার চট্টগ্রামে দলের সঙ্গে যোগ দেন ৩৫ বছর বয়সী এ ক্রিকেটার। শেষ পর্যন্ত টেস্ট ম্যাচ খেলছেনও। শত প্রতিকূলতা জয় করে সিনেমায় হিরো যেমন এন্ট্রি করেন, সাকিবের কভিড জয় করে টেস্ট খেলতে নামাও অনেকটা তাই।

গত বছর শ্রীলঙ্কা সফরে টেস্ট খেলতে যাননি সাকিব। সিরিজ থেকে ছুটি নিয়ে আইপিএল খেলেন। যে কারণে তীব্র সমালোচনার মুখেও পড়তে হয় তাকে। বাংলাদেশের ক্রিকেটে সাকিব সব সময়ই আলোচিত চরিত্র- কখনও ভালো খেলে, কখনও না খেলে বা বিতর্কিত ঘটনা ঘটিয়ে। এবার বিতর্কিত কিছু করেননি। তবে সদ্য করোনামুক্ত হয়ে টেস্টের মতো পাঁচ দিনের ক্রিকেটে খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়াও একটি ঘটনা। কতটা মানসিক দৃঢ়তা থাকলে একজন ক্রিকেটার কভিডমুক্ত হওয়ার এক দিন পরই অনুশীলনে নেমে যেতে পারেন। যেটা পুরো দলকেই উজ্জীবিত করবে ভালো খেলতে। লঙ্কানদের বিপক্ষে ভালো খেলা এ মুহূর্তে খুবই প্রয়োজন। কারণ গত কিছু দিনে টেস্টেও যে কিছুটা উন্নতি করেছে বাংলাদেশ, তা আরও একধাপ এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ টাইগারদের সামনে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ভালো খেলার প্রেরণাও রয়েছে। এই দলের বিপক্ষে চট্টগ্রামে খেলা শেষ দুই টেস্টে হারেনি বাংলাদেশ। ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে ড্র করেছে। ১৮ সালের ম্যাচে দুই ইনিংসে দুটি সেঞ্চুরি রয়েছে মুমিনুলের। এই দলটির বিপক্ষে যেটা সেরা পারফরম্যান্স বাঁহাতি এ ব্যাটারের, ওই সেঞ্চুরি দুটি আমাকে স্বস্তি দিয়েছিল, কারণ সে সময়ে ব্যাড প্যাচে ছিলাম। সেই চট্টগ্রাম এবং সেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলা। আরেকবার ব্যাড প্যাচ থেকে চট্টগ্রামে টেস্ট খেলতে নামছেন মুমিনুল। যেখানে সেরাটা খেলে নিজে ব্যাড প্যাচ থেকে বেরিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করতে পারেন এ বাঁহাতি।

ক্রিকেটের কোনো সংস্করণেই বাংলাদেশের কাছে অজেয় নয় শ্রীলঙ্কা। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দেশে ও বিদেশে হারাতে পারলেও টেস্টে একমাত্র জয়টি এসেছে কলম্বোতে। বাংলাদেশের শততম টেস্টে ম্যাচ ছিল সেটি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলা সাকিবের শেষ টেস্ট ম্যাচও শততম টেস্ট। যে ম্যাচে সাকিবের পারফরম্যান্স ভোলার মতো নয়। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি (১১৬), দ্বিতীয় ইনিংসে ৪১ রান করার পাশাপাশি ৬ উইকেট নেন ম্যাচে। বাঁহাতি এ অলরাউন্ডার যেখানে শেষ করেছিলেন সেখান থেকে শুরু করলে লঙ্কানদের বিপক্ষে দেশের মাটিতে প্রথম জয় পেয়েও যেতে পারে বাংলাদেশ। রানপ্রসবা চট্টলার উইকেটে তাই অলরাউন্ড ক্রিকেট খেলতে হবে টাইগারদের। বোলিং বা ব্যাটিং যেটাই করুক প্রথম ইনিংসে লিডে থাকতে হবে। টপ অর্ডারে অন্তত দুজন ব্যাটারকে রান করতে হবে। সেটা পেলে মিডল অর্ডারে বাকিরা টেনে নিয়ে যেতে পারবেন। বোলারদের কসরত করতে হবে প্রতিপক্ষের ২০টি উইকেট নিতে। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের ব্যাটিংবান্ধব পিচে ২০ উইকেট নেওয়া দিমুথ করুনারত্নের কাছে কঠিন মনে হলেও রাসেল ডমিঙ্গো বা মুমিনুল হক তা মনে করেন না। স্পিন ও পেস বোলিংয়ের সমন্বয় হলে সফরকারীদের দুবার অলআউট করা সম্ভব বলে মনে করেন তারা। এখন চেনা আঙিনায় ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিংয়ে জ্বলে উঠতে পারলে মুমিনুলরা আরেকবার গাইতে পারবেন আমরা করেছি জয়। যদিও কাজটি সহজ হবে না। কারণ দেশের মাটিতে ২০১৮ সালের পর বড় দলের বিপক্ষে টেস্ট জেতেনি বাংলাদেশ। এ ছাড়া বৃষ্টি ছন্দপতন ঘটাতে পারে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করাতে। সুতরাং জয়ের স্বাদ নিতে হলে এই প্রতিকূলতাগুলোও জয় করতে হবে আগে।