গাজীপুরে টেক্সটাইল মিলের গুদামে আগুন,আরও একটি উপশহর করতে যাচ্ছে রাজউকসোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ যথেষ্ট উদ্বেগজনকব্রাজিলের ঐতিহাসিক জয়ে টিএসসিতে সমর্থকদের উল্লাসকুমিল্লার ৫ ইউপিতে ভোটগ্রহণ চলছে
No icon

কাতারের হয়ে ফিফার কাতর আহ্বান

বিয়েবাড়ির শেষ বেলার মতো অবস্থা। অতিথিরা একে একে আসতে শুরু করেছেন। এদিকে ডেকোরেটরের লোকজনের টেবিল বসানো হলো কিনা, তা নিয়ে বাড়ির কর্তার টেনশন! এর পর সবকিছু ভালোয় ভালোয় হয়ে যাওয়ায় স্বস্তি কর্তার চোখেমুখে। দৃশ্যমান সমস্যা, অদৃশ্যমান চাপ- সবকিছুর মোকাবিলা করে গতকাল বিয়েবাড়ির কর্তার মতোই সবাইকে ডেকে সামনে বসেছিলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। অনেক কথা বোধ হয় তাঁর ভেতরে ছিল, বললেনও অনেক কিছু। তার পরও কিছু যেন তাঁর ভেতরেই থেকে গেল। ৫৫ মিনিটের পুরোটা সময় তিনি কাতারের হয়ে কাতর আহ্বান জানালেন। সামনে বসা পশ্চিমা মিডিয়ার প্রতি অনুরোধ করলেন, শ্রমিকদের নিয়ে মায়াকান্না বন্ধ করুন, পারলে তাঁদের পাশে দাঁড়ান। ফিফা কাতারের শ্রমিকদের জন্য কল্যাণ ফান্ড করেছে। বিশ্বকাপের পর আয়ের একটা বড় অংশ সেখানে দেওয়া হবে। আপনারা যাঁরা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যবসা করছেন কাতারে, তাঁরা সেই ফান্ডে কিছুদিন।আসলে ১১ বছর আগে কাতারে বিশ্বকাপ দেওয়ার পর থেকেই শ্রমিকদের ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘন, সমকামিতার অধিকার সংরক্ষণ নিয়ে পশ্চিমা মিডিয়া খুব সরব। এদিন তাদেরই উদ্দেশে নিজের জীবন থেকে নেওয়া গল্পটা একটু সময় নিয়েই শোনালেন ইনফান্তিনো। আমার দাদা শ্রমিক ছিলেন। তিনি আফ্রিকাতে কাজ করতেন। আমার বাবার কাছে সেই গল্প শুনেছি। এর পর যখন বিশ্বকাপ ঘোষণার পর প্রথম কাতার এলাম, তখন আমি এখানকার শ্রমিকদের কাছে গিয়েছি।

আমি ব্যক্তিগতভাবে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছি। মজুরি, ছুটি নিয়ে তাঁদের কিছু সমস্যা রয়েছে। কিন্তু তাঁরা কাজ করে খুশি। কেননা এই কাজ করেই তাঁরা তাঁদের পরিবারের কাছে অর্থ পাঠান। নিজেদের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেছেন তিনি। কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের কোনো সরকারি ব্যবস্থা নিয়ে আমরা কথা বলতে পারি না। তার পরও যেটুকু সম্ভব আমরা শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও -এর দপ্তর দোহায় রাখার নিশ্চয়তা পেয়েছি। শ্রমিকদের জন্য মেডিকেল ইন্স্যুরেন্স নিশ্চিত করেছি, তাঁদের জন্য কল্যাণ ফান্ড করেছি। যাঁরা এই শ্রমিকদের কষ্টের কথা বলে বিশ্বকাপের সমালোচনা করছেন, একবার বলুন তো তাঁরা কী করছেন? গত কয়েক বছর ধরে যেভাবে আমাদের সমালোচনা করা হয়েছে, তাতে আজ আমি প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারতাম। কিন্তু আমি মনে করি, ঘরে বসে হাতুড়ি না পিটিয়ে শ্রমিকদের পাশে থাকুন, যাতে তাঁরা সত্যিই উপকৃত হন। নিজে সুইজারল্যান্ডের মানুষ হয়েও পশ্চিমা সংস্কৃতি ও ভাবধারার তীব্র সমালোচনা করেন।