ভূমিকম্পের জেরে মৃত্যু ছাড়িয়েছে ৪০০০মলদ্বীপে সন্তানদের সঙ্গে ছুটির মেজাজে শাহরুখবগুড়ায় ধর্ষণ চেষ্টাকালে আ’লীগ নেতার পুরুষাঙ্গ কেটে দেয়া হয়রাজধানীর সব ফ্লাইওভারে থাকা দেয়াল লিখন ও পোস্টার দুই সপ্তাহের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন হাই কোর্ট৫৮ বছর বয়সী এক নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ
No icon

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার উল্টোপথে সচিবরা

চতুর্থবারের মতো সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে ২০১৯ সালে প্রথম অফিসের দিন তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের কাজ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার মধ্যে অন্যতম ছিল দুর্নীতি প্রতিরোধ । প্রধানমন্ত্রী এই বার্তা আরও কঠোরভাবে দিয়েছিলেন গত বছরের সচিব সভায়। তিনি বলেছিলেন, এত বেতন ও সুযোগ সুবিধার পরও দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। বাস্তবে প্রশাসনে দুর্নীতি প্রতিরোধে শক্ত অবস্থান দৃশ্যমান হয়নি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দুর্নীতির ক্ষেত্রে নমনীয় উদ্যোগের দেখা মিলছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। আজ রোববার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আবারও সচিব সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী নিয়মিত সম্পদের হিসাব নেওয়া হলে সরকারি চাকুরেদের দুর্নীতি প্রতিরোধে বড় পদক্ষেপ হতো বলে মনে করেন সংশ্নিষ্টরা। কিন্তু ১৯৭৯ সালে প্রণীত এই বিধিমালাটি দশকের পর দশক কাগুজে দলিল হয়ে আছে। প্রায় কোনো মন্ত্রণালয়ের সচিবই সম্পদের হিসাব নেওয়ার পদক্ষেপ নেননি। সচিবদের কেউই নিজের সম্পদের হিসাব দিয়ে উদাহরণ তৈরি করেননি। উল্টো এ বিধিমালার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন সচিবরা।

সম্প্রতি আচরণ বিধিমালাটি সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বিধিমালার বিধি-১৩ তে সরকারি কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব দেওয়ার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, চাকরিতে প্রবেশের সময় সব সরকারি কর্মচারীকে সম্পদের হিসাব দিতে হবে। এরপর প্রতি ৫ বছর পর পর সম্পদের হ্রাস-বৃদ্ধির হিসাব সরকারের কাছে জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে সম্পদের হিসাব নেওয়া নিশ্চিত করার দায়িত্ব সচিবদের। কিন্তু কোনো মন্ত্রণালয়ের সচিবের পক্ষ থেকে এমন উদ্যোগের কথা জানা যায়নি। উল্টো এই বিধানটি দুর্বল করার একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এমন প্রশ্ন রাখলে গতকাল সন্ধ্যায় সাবেক সচিব বদিউর রহমান সমকালকে বলেন, দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়ার কাজ করলে দুর্নীতি প্রতিরোধ হবে না। একজন ইউএনওর (ঘোড়াঘাট, দিনাজপুর) ওপর হামলার পর তাঁকে হেলিকপ্টারে ঢাকায় এনে চিকিৎসা করালো সরকার। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে যে দুর্নীতির জোরালো অভিযোগ উঠল সে বিষয়ে কেন পদক্ষেপ নেই? তিনি আরও বলেন, আগে বোঝা দরকার আমাদের সরকারগুলো দুর্নীতিমুক্ত সচিবদের চান কিনা।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, প্রায় ৪৩ বছর আগে সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা জারির পর প্রতি বছর কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার কথা বিধিতে উল্লেখ ছিল। সে নিয়ম (ব্যতিক্রম ছাড়া) প্রায় কেউই পালন করেননি। এরপর শীর্ষ কর্মকর্তারা এক বছরের বদলে ৫ বছর পর পর সম্পদের হিসাব দেওয়ার বিধান করে ২০০২ সালের দিকে বিধিমালাটি সংশোধন করেন। কিন্তু এ নিয়মটিও প্রায় কেউই প্রতিপালন করছেন না। এখানেই থেমে নেই। নতুন সংশোধন প্রস্তাবে ৫ বছর অন্তর সম্পদের হিসাব দেওয়ার বিধানটিও তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। গত ২৯ মে বিধিমালার সংশোধন প্রস্তাব প্রশাসনিক উন্নয়ন-সংক্রান্ত সচিব কমিটিতে ওঠানো হয়েছিল। এতে নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ বছর অন্তর সম্পদের হিসাব দেওয়ার বিধানটি বাধ্যতামূলকভাবে পালনের প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু সচিব কমিটি এই বিধানটি তুলে দিয়ে এনবিআর-এ দেওয়া সম্পদের হিসাবই যথেষ্ট কিনা তা খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দিয়েছে। সে অনুযায়ী আচরণ বিধিমালার খসড়া এখন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। সেখানকার মতামত পেলে বিধিমালাটি আবারও সচিব কমিটিতে ওঠানোর পর চূড়ান্ত হবে জানা গেছে।