
টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটিতে বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শত শত ঘরবাড়ি, ফলের বাগান ও ফসলের জমি। ক্ষেত-খামারে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির ফলে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা।এদিকে কাপ্তাই হ্রদের পানি কিছুটা কমলেও ডুবে যাওয়া ঘরবাড়ির বাসিন্দাদের দুর্ভোগ কমেনি। এখনো পানিবন্দির রয়েছে রাঙামাটি সদর, নানিয়ারচর, কাপ্তাই, বাঘাইছড়ি, লংগদু, জুরাছড়ি, বরকল ও বিলাইছড়ির মানুষ।রাঙামাটি শহরের উপকণ্ঠে মায়াবী দ্বীপ রিসোর্টের ব্যবস্থাপক মিথুন ত্রিপুরা বলেন, কাপ্তাই হ্রদের পানিবৃদ্ধি পেয়ে আমার থাকার ঘরটিও ডুবে গেছে। আমার রুমে এখনও পানি রয়েছে। ঘরবাড়ি ডুবে বহু মানুষ দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন।বরকল উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শ্যামরতন চাকমা বলেন, আমি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ৫ হাজার মরিচ চারা, দুই হাজার বেগুন চারা ও সাড়ে ৪০০ পেঁপেগাছ লাগিয়েছি। আমার সব ক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে। বরকল উপজেলায় ৭০-৮০ জনের পেঁপে বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বরকলের সুবলং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তরুণ জ্যোতি চাকমা জানান, তার ইউনিয়নে কমপক্ষে ২০-২৫ লাখ টাকার পেঁপে বাগান নষ্ট হয়েছে। বাঙালিপাড়ায় অন্তত ৭৫টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।রাঙামাটির দুর্গম জুরাছড়ি উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে ৫৫টি বসতবাড়ি ও ৪৯ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বায়েজিদ বিন আখন্দ। জেলার লংগদু উপজেলায় ১৫০ পরিবারের বসতবাড়ি পানিতে ডুবেছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। কাপ্তাই উপজেলায় ৩৫টি বসতবাড়ি পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) এসএম মান্না জানিয়েছেন, কাপ্তাই হ্রদের পানিবৃদ্ধির কারণে ৭৬৬টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৭ হাজার ৬১৮ জন মানুষ দুর্যোগে ক্ষতির শিকার হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন। ৫৯টি মৎস্য খামার, ২০০টি গবাদিপশু ও ২৩৯ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৪৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে সেখানে ৯৭৯ আশ্রয় নিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ৭০৫ প্যাকেট শুকনা খাবার এবং ৬.৬৩ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।