দেশে এখন মাথাপিছু আয় ২২২৭ ডলারগণপরিবহন আরও কিছু দিন বন্ধ রাখতে চান স্বাস্থ্যমন্ত্রীমালয়েশিয়ার মসজিদে মসজিদে ফিলিস্তিনিদের জন্য দোয়া৯৫৪ জন শিক্ষক-কর্মচারী পাচ্ছেন উচ্চতর গ্রেড করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা ৩৩ লাখ ৯২ হাজার ছাড়াল
No icon

বিনিয়োগে বড় ঝুঁকি তবুও চাহিদা তুঙ্গে

কোনো প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি নেই, নেই লেনদেনের কোনো গ্যারান্টি, নিয়ন্ত্রণের জন্য নেই কোনো কর্তৃপক্ষ, মুদ্রা খোয়া গেলে বা দরপতন ঘটলে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এরপরও ডিজিটাল মুদ্রা বিটকয়েনের চাহিদা এখন তুঙ্গে। হু-হু করে বাড়ছে বিটকয়েনের দাম। ২০০৯ সালে মুদ্রাটির যাত্রার শুরুতে প্রতি বিটকয়েনের দাম ছিল এক ডলার বা ৭৯ টাকার নিচে। এখন তা বেড়ে ৫৭ হাজার ৩৫২ ডলার বা ৪৮ লাখ ৭৩ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। আলোচ্য সময়ে যে শুধু এর দাম বেড়েছে তা নয়, ওঠানামাও করেছে ব্যাপক হারে। তবে দাম কমার চেয়ে বেড়েছে বহুগুণ বেশি। যে কারণে বিটকয়েনে বড় ঝুঁকি নিয়ে যারা বিনিয়োগ করেছেন তাদের অনেকে রাতারাতি ধনী হয়েছেন।সূত্র জানায়, বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশে বিটকয়েন কেনাবেচা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তারপরও থেমে নেই এর লেনদেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এর ব্যবসা বেআইনিভাবে বাংলাদেশেও প্রসারিত হচ্ছে। আবার প্রতারণার ঘটনাও ঘটছে। বিদেশে কেনা পণ্যের দাম যেমন বিটকয়েনের মাধ্যমে পরিশোধ করা হচ্ছে, তেমনি এতে বিনিয়োগ করাও হচ্ছে। আবার আন্তর্জাতিক লেনদেনেও এর ব্যবহার বাড়ছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে বিটকয়েন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারপরও যদি কেউ এর লেনদেনের সঙ্গে জড়িত থাকেন এবং সেটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরে আসে সে ক্ষেত্রে অবৈধ মুদ্রা লেনদেনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নজর রাখছে।জানা গেছে, বেআইনি এই মুদ্রা নিয়ে ব্যবসা করার দায়ে ইতোমধ্যে পুলিশ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে বগুড়া থেকে তিনজন, সিলেট থেকে ৩ জন ও গাজীপুর থেকে একজনকে গ্রেফতার করেছে। এদের বিরুদ্ধে বেআইনি মুদ্রা ব্যবসার দায়ে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এখন তদন্ত চলছে।আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদার কথা বিবেচনা করে বিভিন্ন মুদ্রার সঙ্গে এর বিনিময় হারের তথ্য-উপাত্ত কারেন্সিভিত্তিক ওয়েব পেইজগুলোতে ;লাইফসম্প্রচার করা হচ্ছে। অনেক দেশে এর লেনদেন নিরাপদ করতে ও প্রতারণার ঘটনা বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক রয়েছে। তবে কোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন পর্যন্ত বিটকয়েনকে স্বীকৃতি দেয়নি। ওইসব দেশে অনলাইনে কেনাবেচা হচ্ছে। কেননা অনলাইনে এই মুদ্রা কেনাবেচায় কোনো বিধিনিষেধ নেই।সূত্র জানায়, ২০০৯ সালে সাতোশি নাকামোতো ছদ্মনামে কোনো এক ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এই মুদ্রার প্রচলন করেন। ওই ব্যক্তির বা প্রতিষ্ঠানের এখন পর্যন্ত কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। কিন্তু মুদ্রার লেনদেন হচ্ছে। এবং বাজারে ক্রমেই এটি শক্তিশালী হয়ে উঠছে। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী প্রায় আড়াই কোটির বেশি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য কিনে বিটকয়েন দিয়ে মূল্য পরিশোধ করা যায়। এছাড়া হুন্ডি, মুদ্রা পাচার, চোরাচালানের দেনা পরিশোধ, জুয়ার আসরে বিটকয়েন ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।