দেশে এখন মাথাপিছু আয় ২২২৭ ডলারগণপরিবহন আরও কিছু দিন বন্ধ রাখতে চান স্বাস্থ্যমন্ত্রীমালয়েশিয়ার মসজিদে মসজিদে ফিলিস্তিনিদের জন্য দোয়া৯৫৪ জন শিক্ষক-কর্মচারী পাচ্ছেন উচ্চতর গ্রেড করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা ৩৩ লাখ ৯২ হাজার ছাড়াল
No icon

বিডিবিএলের ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ

জাল সমঝোতা স্মারক তৈরি করে পণ্য আমদানির নামে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) থেকে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে একদিনে ১৫ হাজার টন পণ্য ট্রাকে পরিবহণের ঘটনাকে ডাকাতি বলা হয়। দুদকের উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান তদন্ত শেষ করে কমিশনে প্রতিবেদন দেন।এর আগে ওই অর্থ আত্মসাতে জড়িত সন্দেহে মেসার্স ঢাকা ট্রেডিং হাউজের মালিক মো. টিপু সুলতান, বিডিবিএল-এর এজিএম দেওয়ান মোহাম্মদ ইসহাক, সাবেক এসপিও দীনেশ চন্দ্র সাহা এবং সাবেক জিএম সৈয়দ নুরুর রহমান কাদরীর বিরুদ্ধে মামলা করেছিল দুদক।তদন্তকারী কর্মকর্তা গুলশান আনোয়ার শনিবার জানান, ২০১২ সালে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সিল ও সই জাল করে টিপু সুলতানের নামে একটি দরপত্র গ্রহণ করা হয়। তারপর সমঝোতা স্মারকের ভুয়া নথি তৈরি করে পরস্পর যোগসাজশে ব্যাংক থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকটির তিন কর্মকর্তা ভুয়া নথি ব্যবহার করে ১৫ হাজার টন গম আমদানির নামে ঢাকা ট্রেডিং হাউজকে ২৫ কোটি টাকা উত্তোলনের সুযোগ করে দেন। ওই ঋণের বিপরীতে গ্রাহক প্রতিষ্ঠান ব্যাংকে যে পরিমাণ সম্পদ বন্ধক রেখেছে তা অপ্রতুল ছিল এবং তাতে ঋণ পরিশোধের কোনো সম্ভাবনাই ছিল না।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ঢাকা ট্রেডিং হাউজ একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, যার স্বত্বাধিকারী মো. টিপু সুলতান। গ্রাহকের অনুকূলে ২০১২ সালের ৩ এপ্রিল মঞ্জুরিপত্র ইস্যু করা হয়। খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় ও মেসার্স ঢাকা ট্রেডিং হাউজের স্বত্বাধিকারী মো. টিপু সুলতানের মধ্যে সম্পাদিত এমওইউ অনুযায়ী স্থানীয় বাজার থেকে ১৫ হাজার টন গম সংগ্রহের জন্য এই চুক্তি হয়। এর বিপরীতে ব্যাংক থেকে ২৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার এলটিআর ঋণ মঞ্জুর করা হয়। মঞ্জুরিপত্র ইস্যুর পরদিনই বিডিবিএল-এ এলসি করা হয়। গ্রাহক এলসি নেগোসিয়েশন ব্যাংক হিসাবে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক বিজয়নগর শাখায় ফরওয়ার্ডিং শিডিউলসহ শিপিং নথি জমা দেন। শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ওই দিনই তা বিডিবিএল-এ পাঠায়। বিডিবিএল-এর নোটিংয়ের ৩২তম পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকা ট্রেডিং হাউজ এলসিতে উল্লিখিত মালামাল বুঝে পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ডকুমেন্ট ছাড় করার অনুরোধ করা হয়েছে। আগের দিন এলসি স্থাপন করার পরদিনই ১৫ হাজার টন গম বুঝে পাওয়ার বিষয়টি সন্দেহজনক। পরে বিডিবিএল-এর নিয়োগ করা অডিট ফার্ম জি. কিবরিয়া অ্যান্ড কোং. নিরীক্ষা করে জানায়, ব্যাংকের সঙ্গে ঢাকা ট্রেডিং হাউজের চুক্তিটি ছিল জাল।