কক্সবাজারে ফ্লাই ডাইনিং নামে একটি ঝুলন্ত রেস্টুরেন্টের যাত্রা শুরুমহামারীকালে বিশ্বে এইডস রোগীর সংখ্যা বেড়েছে১৭১০ জনকে নিতে ৪৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশডিসেম্বর বাঙালির আনন্দ-গৌরবের মাসশারীরিক উপস্থিতিতে শুরু আপিল বিভাগের বিচারকাজ
No icon

উন্নয়ন কাজ ঠিক রাখতেই জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম ঠিক রাখতেই ডিজেল ও কেরোসিন তেলের বাড়তি মূল্য জনগণের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিক বাজারে যে হারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে, তার পুরোটা সরকারকে বহন করতে হলে উন্নয়ন কাজে অর্থায়ন ব্যাহত হতো। রাজস্ব জোগান ঠিক না থাকলে প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে না। এতে উন্নয়ন পিছিয়ে যাবে। সরকার পিছিয়ে যেতে চায় না।বুধবার অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত এবং সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে অনলাইন ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়কে পুরোপুরি যৌক্তিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার টাকা পাবে কোত্থেকে? জ্বালানি তেলের দাম তো সরকার বাড়ায়নি। আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে। ফলে সরকারকে বাড়তি দর সমন্বয় করতে গিয়ে ভোক্তাদের সঙ্গে শেয়ার করতে হচ্ছে। সরকার তো যতটা সম্ভব নিজে বহন করে।অর্থমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেলের দাম সরকার জনগণের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নির্ধারণ করে। যখন দাম কমে, তখন সরকার দাম কমায়। যখন দাম বাড়ে, তখনও ভর্তুকি মূল্যে সরবরাহ করা হয়। কী পরিমাণ ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে তা আগামীতে জানানো হবে।

তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম গত দুই বছরে অনেক বেড়েছে। সরকার আর কতটা বাড়তি ব্যয় বহন করতে পারে? সরকার অনেকটা ভর্তুকি দিচ্ছে। কিছুটা তো ভোক্তাকে বহন করতে হবে। তিনি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তার বিভিন্ন প্রকল্প আছে। এসব প্রকল্পের অর্থ সরকারকে আয় করেই দিতে হচ্ছে। সরকার তো টাকা ছাপায় না। তারপরও শেয়ারিংয়ের সময় সরকার যতটা পারে, ততটা বহন করে। যেটা না হলে নয়, সেটা ভোক্তাদের ওপর দিয়ে দেওয়া হয়। এটা কেউ অস্বীকার করতে পারে না।সম্প্রতি ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ১৫ টাকা বা ২৩ শতাংশ বাড়িয়েছে সরকার। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মঘট ডাকে পরিবহন মালিকরা। পরে গণপরিবহনের ভাড়া ২৭ শতাংশ বাড়ানোর হয়। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পণ্যমূল্যসহ জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের অনেকে।

শান্তিনগর-মাওয়া ফ্লাইওভার হচ্ছে না:বুধবার অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় শান্তিনগর-মাওয়া ফ্লাইওভার প্রকল্প প্রত্যাহারের প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে। ফলে এ প্রকল্পটি আর হচ্ছে না। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, যাদের প্রকল্প তারাই প্রত্যাহার করেছে। প্রকল্প প্রস্তাবটি অনেক আগের। সেই সময়ের আর এখনকার প্রেক্ষাপট এক রকম নয়। দেশে এরই মধ্যে অনেক রাস্তাঘাট-অবকাঠামো তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া যেভাবে প্রকল্পটি তৈরি করার কথা ছিল সেভাবে হয়নি। এ নিয়ে অনেক কথাবার্তা হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় প্রকল্পটি প্রত্যাহার করেছে।১০ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের প্রস্তাবিত এই ফ্লাইওভারটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে বাস্তবায়নের কথা ছিল। এর ব্যয় ধরা হয় পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি। ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। একনেকে অনুমোদন পেতে পাঁচ বছর সময় লাগে। এরপর নানা জটিলতায় প্রকল্পটি আটকে থাকে।এদিকে বুধবারের সভায় ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি আটটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। যেগুলো বাস্তবায়নে মোট এক হাজার ১৫০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে আসবে ১৬৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকা এবং দেশীয় ব্যাংক, বিশ্বব্যাংক, এডিবি ও সৌদি উন্নয়ন তহবিল হতে ৯৮২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আসবে।