তিন ঝুঁকিতে বিশ্ব অর্থনীতিযুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা পাচ্ছে মিশরসবার আগে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকরোনার নতুন তাণ্ডবে ফের কাঁপছে গোটা বিশ্বক্রেডিট কার্ডে নতুন কর্মক্ষেত্র
No icon

ডিসেম্বর বাঙালির আনন্দ-গৌরবের মাস

লাখো বাঙালির রক্তের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে পরাধীনতার শেকল থেকে মুক্তি মেলে। দেখতে দেখতে পেরিয়েছে ৪৯ বছর। আর কয়েকদিন পরই গৌরবময় বিজয়ের ৫০ বছর পূর্ণ হবে। বছর ঘুরে আবার এসেছে বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। বাঙালির হৃদয়ে এ মাস আনন্দের ও গৌরবের।১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হলেও স্বাধীন সূর্যোদয়ের ভিত্তি সূচিত হয়েছিল আরও আগেই। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণে বাঙালি স্বাধীনতা অর্জনের দৃঢ় শপথ নেয়।২৫ মার্চের অপারেশন সার্চলাইটে পাক হানাদার বাহিনীর নির্মম-নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর দামাল ছেলেরা রুখে দাঁড়াবার শপথ নেয়। শপথ নেয় স্বজন হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার। এরপর দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম আর আত্মদানের মাধ্যমে আসে কাঙ্ক্ষিত বিজয়।বাংলা ভাষার ভিত্তিতে যে জাতীয়তাবাদ গড়ে উঠেছিল, রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে বিজয়ের মাধ্যমে ঘোষিত স্বাধীনতা পূর্ণতা পায় ১৬ ডিসেম্বর। তবে ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসের প্রতিটি দিনই ছিল ঘটনাবহুল। যুদ্ধের এই ৯ মাসে জাতি হারিয়েছে তার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের।

শোককে শক্তিতে পরিণত করে, বিজয়ের সেই গৌরবকে বুকে ধারণ করে ৫০ বছরে একটু একটু করে বদলে গেছে বাংলাদেশ।স্বল্পোন্নত দেশ থেকে এখন পৌঁছে গেছে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে। মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ায় জীবনমান ও মাথাপিছু আয় বেড়েছে।ক্ষুধা, দারিদ্র ও দুর্নীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তরুণ প্রজন্ম নতুন উদ্দীপনায় এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে দেশকে। তাদের হৃদয়ে রয়েছে দেশপ্রেম, গণতান্ত্রিক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।বিজয়ের ৫০ বছর উপলক্ষে পুরো ডিসেম্বর মাস সরকার, আওয়ামী লীগসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও দেশের মানুষ উদযাপন করবে।তবে এর আগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে মুজিববর্ষ উদযাপন করছে বাংলাদেশ। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে যথাযথভাবে কর্মসূচিগুলো পালন করা যায়নি। মুজিববর্ষের মেয়াদ এই বছরের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবার একসঙ্গে উদযাপন হচ্ছে।১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীসহ সারাদেশে বিজয় শোভাযাত্রা হবে। সারাদেশে বর্ণাঢ্য বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন টানানো হবে। ঢাকা জুড়ে থাকবে আলোকসজ্জা। সভা, সেমিনার ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে।