ইরান সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে সামলাতে সিরিয়া ব্যবস্থা নিতে পারে। ইসরায়েলকে এমন পরামর্শ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলের অভিযানের কারণে লেবাননে অনেক প্রাণহানি হচ্ছে। তাই তিনি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পরামর্শ দিয়েছেন, তেল আবিব যদি কাউকে হত্যা না করে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে না পারে তাহলে সিরিয়া ব্যবস্থা নেবে।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, ‘শারা অসাধারণ কাজ করছেন। হিজবুল্লাহকে সামলাতে ইসরায়েল যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে শারা কাজটি করবেন। সিরিয়া কাজটি করবে।’
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট হন আল-শারা। তিনি এক সময় আল-কায়েদা ঘনিষ্ঠ সন্ত্রাসী সংগঠন হায়াত তাহরির আল-শাম এর নেতা ছিলেন। গত বছরের জুলাইয়ে ওয়াশিংটন তাহরির আল-শামকে সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকা থেকে বাদ দেয়।
ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে সিরিয়ার নতুন নেতারা তাদের সহিংস অতীত থেকে বেরিয়ে এসে নিজেদের মধ্যপন্থী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। গত বছর আল-শারা ওয়াশিংটন সফরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও বৈঠক করেন। তখন বলা হয়েছিল, মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয় এবং সিরিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র দামেস্কের কাছে একটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা করছে।
শারার ওয়াশিংটন সফরের সময় এএফপির প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছেন, সিরিয়া আব্রাহাম চুক্তির আওতায় ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে শারা নিজেও বলেছিলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে তিনি একটি নিরাপত্তা চুক্তি চান।
একই বছরের ডিসেম্বর থেকে ইসরায়েল জাতিসংঘ নিয়ন্ত্রিত বাফার জোনে (সিরিয়া সীমান্তবর্তী) সেনা মোতায়েন করে। পাশাপাশি সিরিয়ায় বেশ কয়েক দফায় হামলা করে। কিন্তু দামেস্ক কোনো পাল্টা জবাব দেয়নি।