মিশরের ভূমিকম্পে ইসরায়েলে কম্পন, ক্ষতির খবর নেইবৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে আগামী ৩ থেকে ৪ দিনবন্যা নিয়ে দুঃসংবাদএনআইডি সংশোধন সহজ করতে ইসির কমিটিএমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি চালু
No icon

নেপালে হিন্দু-মুসলিম সহিংসতায় নিহত ৩

দক্ষিণ নেপালের সুনসারী জেলায় শোভাযাত্রায় ডিজে সাউন্ড বক্স বাজানো এবং ধর্মীয় পতাকা টাঙানোকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন দুই ডজনেরও বেশি মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সুনসারীসহ পার্শ্ববর্তী বেশ কয়েকটি জেলায় সান্ধ্য আইন (কারফিউ) জারি করা হয়েছে এবং টহলে নামানো হয়েছে সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (এপিএফ)।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জুলাই রাতে ভারতের বিহার সীমান্তসংলগ্ন সুনসারী জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার কাপতানগঞ্জে 'বলবম' তীর্থযাত্রীদের একটি শোভাযাত্রা যাওয়ার সময় গান বাজানো নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়। যা পরবর্তীতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও দুই পক্ষের মুখোমুখি সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই দুইজন মারা যান। পরবর্তীতে সিরাজা জেলায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে বৃহস্পতিবার আরও একজনের মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন— গণেশ যাদব, ওম প্রকাশ মেহতা এবং জয় প্রকাশ মেহতা। প্রাথমিক সংঘাত দ্রুতই সুনসারী থেকে সপ্তরী, সিরাহা, ধানুশা এবং পারসা জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। উত্তেজিত জনতা একাধিক যানবাহন, দোকানপাট ও শপিংমলে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালায়। সিরাহা জেলায় ৩০ জুলাই একটি মল পুড়িয়ে দেওয়ার চিত্র পাওয়া গেছে। ২৯ ও ৩০ জুলাই জনকপুরধামে বিশাল প্রতিবাদ মিছিল বের করে নেপালের বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কুশপুতুল দাহ করা হয়। পুলিশ টিয়ারশেল ও সান্ধ্য আইন জারি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়।

এদিকে সহিংসতা শুরু হওয়ার চার দিন পর ৩০ জুলাই রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং সরকারের ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দল ও স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, সংকটকালে শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের অদূরদর্শিতা ও সময়মতো পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণে সহিংসতা দ্রুত একাধিক জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ তাঁর ভাষণে সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা, গুজবে কান না দেওয়া এবং যেকোনো উস্কানিমূলক তৎপরতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

বর্তমানে এসব অঞ্চলে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে সেনা ও পুলিশ বাহিনী ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে আকাশপথে নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। সূত্র: ল স্ট্রীট।