১৩ জেলায় বৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্কতাচট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত ৩ উপজেলা সফর করবেন প্রধানমন্ত্রীপ্রথম শ্রেণির ভর্তিতে লটারিই থাকছেবিরোধী দল ছাড়াই শুরু হচ্ছে সংবিধান সংশোধনের কাজবৃষ্টি ঝরবে আগামী কয়েক দিন, শঙ্কা বন্যা পরিস্থিতির
No icon

মাদরাসায় উচ্চশিক্ষা কেড়ে নিল যোগী সরকার: বন্ধ হচ্ছে ‘কামিল’ ও ‘ফাজিল’ ডিগ্রি

সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক নির্দেশনার পর উত্তরপ্রদেশের মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। উত্তরপ্রদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত মাদরাসাগুলোতে ‘কামিল’ (স্নাতক সমমান) ও ‘ফাজিল’ (স্নাতকোত্তর সমমান) ডিগ্রি কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে মাদরাসা শিক্ষার পরিধি কেবল দ্বাদশ শ্রেণী (আলিম পর্যায়) পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে। 

মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বাধীন রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পেশ হতে যাচ্ছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিললেই এই নির্দেশ কার্যকর করা হবে।

২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর ‘আনজুম কাদরি এবং অন্যান্য বনাম ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া’ মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট উত্তরপ্রদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড আইন, ২০০৪-এর সাংবিধানিক বৈধতা বহাল রাখে। তবে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নিয়মকানুন মেনে না চললে মাদরাসাগুলো 'কামিল' বা 'ফাজিল'-এর মতো উচ্চশিক্ষার ডিগ্রি প্রদান করতে পারবে না।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুসারে, ইউজিসির কাঠামোর বাইরে গিয়ে মাদরাসা বোর্ড উচ্চশিক্ষার ডিগ্রি চালাতে পারে না। যদিও এর আগে এলাহাবাদ হাইকোর্ট ২০০৪ সালের পুরো আইনটিকেই অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছিল, সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের সেই রায় রদ করে মূল আইনটি বহাল রেখে কেবল ডিগ্রি প্রদানের অংশটুকু বাতিল করে।

২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। রাজ্যটির উপ-মুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য বিতর্কিত এক মন্তব্য করে বলেন, "যেখানেই মাদরাসা রয়েছে, সেখানেই সন্ত্রাসবাদ বিস্তার লাভ করে।" তাঁর এই মন্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং বিরোধী দলগুলো এই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করছে।