→ কাল রাজশাহী সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী→ আজ দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ→ মঙ্গলবার থেকে টানা ৫ দিন বন্ধ ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান→ বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার আজ→ গাজায় পণ্য প্রবেশ বন্ধ, বাড়ছে খাদ্যের দাম ও সংকটের শঙ্কা
No icon

ফ্রান্সজুড়ে সহিংসতা-লুটপাট, ‘বরদাশত’ না করার হুঁশিয়ারি ম্যাক্রোঁর

ফ্রান্সে দেশজুড়ে বিক্ষোভ, সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিলেও জরুরি অবস্থা বা কারফিউ জারির ঘোষণা দেননি তিনি। বিক্ষোভের নামে সহিংসতা ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা বরদাশত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট।

রোববার (১৮ অক্টোবর) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে ম্যাক্রোঁ বলেন, যারা ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে, তাদের অপরাধের মূল্য দিতে হবে। শনিবার ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে কয়েক বছরের মধ্যে ভয়াবহতম নগর সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবারের সহিংসতায় প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য ও জেন্ডারমেরি বাহিনীর সদস্য।

ম্যাক্রোঁ বলেন, ন্যায্য দাবি নিয়ে যারা বিক্ষোভ করছেন, তাদের সঙ্গে ভাঙচুর, ধ্বংসযজ্ঞ ও লুটপাটে জড়িতদের পার্থক্য করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘গতকাল আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও কর্মকর্তারা পেশাদারত্বের পরিচয় দিলেও বিভিন্ন শহরে তাদের নজিরবিহীন সহিংসতার মুখে পড়তে হয়েছে।’

ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সরকারকে প্রয়োজনীয় শিক্ষা গ্রহণ এবং আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে সংকটের মধ্যে থাকা মানুষের জন্য জরুরি সহায়তা দিতে একটি ‘সংকট মোকাবিলা ইউনিট’ গঠনের ঘোষণা দেন ম্যাক্রোঁ।

তিনি বলেন, ‘আমাদের ঐক্য, শান্তি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা প্রয়োজন।’

প্যারিস থেকে আলজাজিরার প্রতিবেদক নাতাশা বাটলার বলেন, ম্যাক্রোঁর ভাষণে নতুন কোনো চমক ছিল না। বিক্ষোভকারীরা দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের বক্তব্য শুনে আসছেন বলে তার ভাষণ তাদের ক্ষোভ প্রশমনে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

আগামী বছর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে বিক্ষোভের ঘটনাটি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল জনসমর্থন আদায়ে এ পরিস্থিতিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।

বামপন্থি প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জ্যঁ-লুক মেলঁশো বিক্ষোভ চলাকালে ধ্বংসযজ্ঞের জন্য ফরাসি সরকারকে সম্পূর্ণ দায়ী করেছেন। তার অভিযোগ, জনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার ব্যর্থ হয়েছে।

অন্যদিকে, কট্টর ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জর্ডান বারদেলা ম্যাক্রোঁর ভাষণকে ‘হতাশাজনক’ ও ‘কাপুরুষোচিত’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার দাবি, ফরাসি জনগণকে সুরক্ষা দেওয়ার সক্ষমতা সরকারের নেই এবং জনগণকে দেওয়ার মতো আর কিছুই সরকারের অবশিষ্ট নেই।