বার্তা প্রেরক
১০-০৮-২০২৬
আতাউর রহমান
সিনিয়র রিপোর্টার
শ্রমিকের অধিকার আদায়ে সংগঠনকে আরও গতিশীল করে কাজের মাধ্যমে শ্রমিকের আস্থা অর্জন করতে হবে, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের (বাজাফে-০৮) কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান এ কথা বলেন,
গতকাল (১০ আগষ্ট) সোমবার রাজধানীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের হলরুমে অনুষ্ঠিত সভায় সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লসকর মো. তসলিম
‘"শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলামী শ্রমনীতির বাস্তবায়ন অনিবার্য" এই স্লোগানকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খাঁন, মাস্টার শফিকুল আলম, গোলাম রব্বানী, কবির আহমদ, মুজিবুর রহমান ভুঁইয়া, সহ সকল নির্বাহী সদস্য বৃন্দসভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, ৫৭ বছরের পুরোনো বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। সময়ের সঙ্গে সংগঠনের পরিধি ও নেতৃত্ব বেড়েছে এবং একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে উঠেছে। তবে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে সংগঠনটি কতটা কার্যকর ও উপযোগী হয়ে উঠতে পেরেছে, সেটিই এখন মূল্যায়নের বিষয়।
তিনি বলেন, কে সংগঠনের কাজের মূল্যায়ন করল বা করল না—এটি বড় বিষয় নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন শ্রমিকদের কল্যাণ ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে। শ্রমিকরা তাদের অধিকার আদায়ের জন্য সংগঠনটিকে উপযুক্ত ও আস্থার জায়গা হিসেবে বিবেচনা করছে কি না, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আতিকুর রহমান বলেন, ছাত্রশিবির যেমন ছাত্রদের আস্থা ও সমর্থন অর্জন করেছে এবং জামায়াতে ইসলামী সাধারণ মানুষের মন জয় করে রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণে ভূমিকা রেখেছে, তেমনি শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনকেও সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের আস্থার সংগঠনে পরিণত হতে হবে। শ্রমিকদের সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের সাধারণ শ্রমজীবী মানুষই সবচেয়ে বেশি সমস্যাগ্রস্ত। তাদের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সংগঠনের পক্ষ থেকে বিবৃতি দেওয়া হচ্ছে এবং বিদ্যমান আইনের আওতায় যতটুকু সম্ভব, ততটুকু সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে শুধু বিবৃতি দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শ্রমিকদের সমস্যা সরাসরি অনুধাবন করে তা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সারা দেশের শ্রমিক সমাজকে সামনে রেখে সংগঠনের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বাংলাদেশের শ্রমিকরা বর্তমানে যেসব সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, সেগুলোকে নিজেদের দায়িত্ব হিসেবে ধারণ করতে হবে। শ্রমিকের সমস্যা অনুধাবন করতে না পারলে সেই সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব নয়।
কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, সংগঠনকে আরও গতিশীল এবং নেতৃত্বকে আরও শ্রমিকবান্ধব করে তৃণমূল পর্যায়ে শ্রমিকদের আরও সুসংগঠিত করেএবং সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। যাতে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন শ্রমিকদের কণ্ঠস্বর হিসেবে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকরভাবে লড়াই-সংগ্রাম করতে পারে।
সভায় কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম, শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা করেন।