চাতাল শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের সাড়ে সাত কোটি শ্রমিকের মধ্যে মাত্র ১৫ শতাংশ শ্রমিক বিধি অনুযায়ী বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। বাকি শ্রমিকদের বড় অংশই শ্রম আইনের সুরক্ষা ও ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। এ অবস্থার পরিবর্তনে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) নওগাঁ জেলা আয়োজন কমিউনিটি সেন্টারে ‘চাতাল শ্রমিকের অধিকার চাই, মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে চাই’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বাংলাদেশ চাতাল শ্রমিক ইউনিয়নের (রেজি. নং বি-২১৩১) দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ চাতাল শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী, নওগাঁ জেলা প্রধান উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুর রাকিব, জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুস সবুর ও সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন প্রমুখ।
অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও চাতাল শ্রমিকসহ দেশের সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের জীবনমানের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন হয়নি। জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক নেতারা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নসহ নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায় না। প্রতিবছর বাজেট প্রণীত হলেও শ্রমিকদের নিরাপত্তা, অধিকার ও জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়ে গেছে।
তিনি বলেন, শ্রমিকেরা দুর্বল ও অসংগঠিত থাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেও পার পাওয়া যায়। দেশে অসংখ্য ট্রেড ইউনিয়ন ও ফেডারেশন থাকা সত্ত্বেও শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে প্রত্যাশিত ভূমিকা নিশ্চিত করা যায়নি। শ্রমিকনেতাদের একটি অংশ সাধারণ শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে নিজেদের স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত থেকেছেন। ফলে শ্রমজীবী মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে না।
শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আদর্শভিত্তিক ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। তবে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও প্রতিকূলতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করা সম্ভব হয়নি।
চব্বিশের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে আতিকুর রহমান বলেন, পরিবর্তনের পরও রাষ্ট্র পরিচালনায় পুরোনো ধারার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। সংস্কারের পরিবর্তে আগের পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক। জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং লুটপাট ও স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি আগের মতো নয়—কেউ চাইলেই স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে ছাত্রদের পাশাপাশি সাধারণ শ্রমজীবী মানুষও জীবন দিয়েছেন। রাজপথে জীবন দেওয়া শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন কোনো বাধা দিয়েই দমিয়ে রাখা যাবে না। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
সম্মেলনে শ্রমিকনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকেরা যেমন সরকারের প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা হারাচ্ছেন, তেমনি অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকনেতাদের প্রতিশ্রুতির প্রতিও আস্থা হারাচ্ছেন। তাই নেতাদের কথার সঙ্গে কাজের মিল থাকতে হবে। সাধারণ শ্রমিকের পক্ষে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই প্রমাণ করতে হবে, তাঁরা গতানুগতিক শ্রমিকনেতা নন; বরং শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিবেদিত।
তিনি চাতাল শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধ ও কার্যকর ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। সম্মেলনে আগামী দুই বছরের জন্য জিয়াউল হক সভাপতি এবং আব্দুল মতিন সাধারণ সম্পাদক সহ পঁয়ত্রিশ সদস্যবিশিষ্ঠ কমিটি নির্বাচিত হয়েছে।
আতাউর রহমান
সিনিয়র রিপোর্টার