ম্যারাডোনার মরদেহ চুরির আশঙ্কা, সমাধি পাহারায় ২০০ পুলিশশিশু বলাৎকারের মামলায় অভিযুক্ত হয়েও বহাল রাসিক কাউন্সিলরকাশ্মীর ইস্যুতে চীনকে ধন্যবাদ ইমরান খানেররিমান্ড আদেশ পাওয়া হাজতির কারাগারে মৃত্যু ঘিরে রহস্যমানবপাচারে দুই এয়ারলাইন্স জড়িত
No icon

করোনায় ১০০ চিকিৎসকের মৃত্যু

দেশে করোনায় চিকিৎসকদের মৃত্যুর ১০০ সংখ্যায় পৌঁছেছে। এদের মধ্যে প্রথম ডা. মঈন উদ্দীন আহমদ মারা যান এবং গতকাল (বৃহস্পতিবার) ডা. সেলিম আহমেদ মারা গেছেন। আর ডা. সেলিম আহমেদের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে চিকিৎসকদের মৃত্যুর তালিকা ১০০ স্পর্শ করলো।করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ভয়ে ছেলে-মেয়েরা যখন বাবা-মাকে ফেলে রেখে চলে গেছেন ঠিক সেই সময় মানবতার সেবায় তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন চিকিৎসকেরা। আবার করোনার শুরুতে যখন সবাই ঘরবন্দী তখন চিকিৎসকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাত-দিন রোগীদের সেবা দিয়েছেন এবং এখনো দিচ্ছেন। কিন্তু পর্যাপ্ত সুরক্ষার ব্যবস্থা না নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একের পর এক চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে চিকিৎসকদের মৃত্যুর তালিকাও দীর্ঘ হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই মৃত্যুর সংখ্যা ১০০ তে পৌঁছেছে। করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে বা করোনার উপসর্গ নিয়ে গত সাড়ে ছয় মাসে তাদের মৃত্যু হয়েছে।বিএমএর তথ্য অনুযায়ী, গত জুন মাসেই মারা গেছেন ৪৫ জন চিকিৎসক। যা মোট মৃত্যুর প্রায় ৪৫ শতাংশ। গত ৪ জুন সবচেয়ে বেশি চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। ওই দিন ৫ জন চিকিৎসক মারা যান। যা এক দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক চিকিৎসক মৃত্যু। এই মাসটি চিকিৎসক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য দুঃসহ ছিলো। আর এই মাসে প্রতিদিনই দেশের কোনো না কোনো এলাকা থেকে চিকিৎসকের মৃত্যুর খবর এসেছে।

ওই মাসের ১২ ও ১৭ তারিখে ৪ জন করে এবং ৩, ৮, ২০ ও ২৪ তারিখে ৩ জন করে চিকিৎসক মারা গেছেন।করোনায় চিকিৎসকদের মৃত্যুর এই তালিকায় নবীন চিকিৎসক যেমন আছেন তেমনি আছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও। এর মধ্যে অনেকেই চিকিৎসাবিজ্ঞানের নাম করা অধ্যাপক ছিলেন। চিকিৎসাসেবা ও চিকিৎসা শিক্ষার অগ্রগতিতে অসামান্য অবদান অনেকেরই আছে। তবে অক্টোবর মাসে সবচেয়ে কমসংখ্যক চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন। আর মৃত্যুর ঘটনাও কম। বিএমএর তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাস থেকে চিকিৎসক মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে। তবে বন্ধ হয়নি।বিএমএর তথ্য আরো বলছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারাদেশে ২ হাজার ৮৫৩ জন চিকিৎসক করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন। এর মধ্যে এপ্রিল মাস পর্যন্ত আক্রান্ত হন ৩৯২ জন। জুন মাসে ৮৪২, জুলাইয়ে ৮৯৫ ও আগস্ট ৫৫৯ জন চিকিৎসক আক্রান্ত হন। সেপ্টেম্বর মাস থেকে চিকিৎসকদের মধ্যে সংক্রমণ কমতে থাকে। ওই মাসে সারাদেশে ১৩৮ জন চিকিৎসক করোনায় সংক্রমিত হন। আর চলতি মাসে ২৯ অক্টোবর ২৭ জন চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন।

এবিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও ইউজিসির অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, অল্প সময়ের ব্যবধানে এত চিকিৎসকের মৃত্যু দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।বিএমএর সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বলেন, এই রোগ সম্পর্কে আগে অনেক কিছুই জানা ছিল না। এখন চিকিৎসকেরা অনেক কিছুই জানেন। যার ফলে তারাও সচেতন হয়েছেন। আর এ জন্য চিকিৎসকদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে। ফলে রোগীরাও আগের চেয়ে ভালো সেবা পাচ্ছেন।প্রসঙ্গত, গত ১৫ এপ্রিল করোনায় দেশে প্রথম চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছিল। সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দীন আহমদ এই দিন মারা গিয়েছিলেন। তিনি করোনায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা করতে গিয়েই সংক্রমিত হয়েছিলেন।