ইরানের বিরুদ্ধে কঠিন পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্পঢাকায় যেমন থাকবে তাপমাত্রাইরানে ১৫ দিনের বিক্ষোভে নিহত অন্তত ৫৩৮চলতি বছর হজ ফ্লাইট শুরু ১৮ এপ্রিলভোটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৩৮ নির্দেশনা সরকারের
No icon

সীমানা নিয়ে আদালতের আদেশ, ভোটে বিপত্তি

তপশিল ঘোষণার পরও সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে উচ্চ আদালতে একাধিক রিট চলছে। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।তবে ইসি এবারের নির্বাচনে যে ৪৬ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করেছিল, এর ১৪টি নিয়ে হাইকোর্ট ইতোমধ্যে আদেশ দিয়েছেন। পাবনা-১ এবং পাবনা-২ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের গেজেট আদালত স্থগিত করায় আসন দুটির ভোটের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।আইন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সংবিধান ও আইনে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ না রাখা হলেও সর্বোচ্চ আদালত তার অন্তর্নিহিত ক্ষমতাবলে তা শুনতে পারেন। কিন্তু যে বিষয়ে ইসিকে এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে, তা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির কাছেই থাকা উচিত। নয়তো নির্বাচন বিঘ্নিত হতে পারে। অতীতে সীমানা নির্ধারণে ইসির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। আদালতে গেলেও ইসির সিদ্ধান্তই কার্যকর ছিল।গত জুলাইয়ে নির্বাচন কমিশন ৩৯ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে। এ নিয়ে আপত্তি এলে, তা নিয়ে পরের মাসে আপিল শুনানি করে ইসি। ৪ সেপ্টেম্বর সীমানা পুনর্নির্ধারণের গেজেট জারি করে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। এতে ৪৬টি আসনের সীমানায় পরিবর্তন আসে।

এর মধ্যে বড় বদল আসে গাজীপুর এবং বাগেরহাট জেলার ৯টি আসনে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে গাজীপুর জেলার আসন সংখ্যা পাঁচ থেকে বাড়িয়ে ছয়টি করেছিল ইসি। বাগেরহাট জেলায় আসন সংখ্যা চার থেকে কমিয়ে তিনটি করা হয়। এ নিয়ে করা রিটে হাইকোর্টের আদেশে ইসি গাজীপুর জেলায় পাঁচটি এবং বাগেরহাট জেলায় চারটি আসন পুনর্বহাল রেখে ১১ ডিসেম্বর সংশোধিত গেজেট জারি করে।ওই দিন তপশিল ঘোষণার পর হাইকোর্ট পৃথক মামলায় ফরিদপুর-৪ আসনের অন্তর্ভুক্ত ভাঙ্গা উপজেলার একটি ইউনিয়ন পরিষদকে ফরিদপুর-২ আসনে যুক্ত করে সীমানা পুনর্নির্ধারণের গেজেট স্থগিত করেন। স্থগিত করেন পাবনা-১, পাবনা-২, কুমিল্লা-১ এবং কুমিল্লা-২ আসনের সীমানা নির্ধারণের গেজেট। কুমিল্লা-১ এবং কুমিল্লা-২ আসনে সীমানার বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশ গতকাল রোববার স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ। রংপুর, বরগুনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার চারটি আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের গেজেট স্থগিত চেয়ে করা চারটি রিট শুনানির অপেক্ষায় আছে।

সংবিধান ও আইনে কী বলা হয়েছে

পার্বত্য তিন জেলায় একটি করে আসন থাকবে। অন্যান্য জেলায় কমপক্ষে দুটি করে আসন থাকবে। বাকি জেলায় আসন সংখ্যা হবে জনসংখ্যা ও ভোটারের অনুপাতে। এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ। প্রতি আসনের গড় ভোটার সোয়া চার লাখ।সংবিধানের ১১৯ (গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ইসির দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ। অর্থাৎ, ইসি ছাড়া আর কেউ সীমানা নির্ধারণ, পুনর্নির্ধারণ করতে পারবে না। ১২৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সংসদের প্রণীত আইন অনুযায়ী ইসি নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ করবে। এই অনুচ্ছেদ ১৯৭২ সালের পর আর পরিবর্তন হয়নি।সীমানা নির্ধারণ আইন-২০২১-এর ৬ ধারা অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন প্রশাসনিক সুবিধা বিবেচনা করে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ করবে। যাতে ভৌগোলিক অখণ্ডতা বজায় থাকে এবং সর্বশেষ জনশুমারিতে উল্লিখিত জনসংখ্যার যতদূর সম্ভব গড়ের কাছাকাছি হবে। এ আইনের ৬(৪) ধারায় বলা হয়েছে, সীমানা নির্ধারণে অনিচ্ছাকৃত কোনো ভুল বা বিচ্যুতি থাকিলে তাহা সংশোধন করিয়া ইসি গেজেটে প্রকাশ করিবে।আইনের ৮ ধারায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক জনশুমারির পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসি সীমানা নির্ধারণ করবে। ২০২২ সালে সর্বশেষ জনশুমারি হয়েছে। এর পর ২০২৪ সালে নির্বাচন হয়েছে। আর জনশুমারি না হলেও আইনের ৮(খ) ধারায় ইসিকে নির্বাচনের আগে সীমানা নির্ধারণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

সংবিধান, আইনে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই

ইসি সংসদীয় আসনের যে সীমানা নির্ধারণ বা পুনর্নির্ধারণ করবে, তা নিয়ে আদালতে মামলা, রিট বা প্রশ্ন তোলার সুযোগ রাখা হয়নি সংবিধানে। সংবিধানের ১২৫(ক) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, এই সংবিধানে যা বলা হয়েছে, তা সত্ত্বেও ১২৪ অনুচ্ছেদের অধীন প্রণীত বা প্রণীত বলে বিবেচিত নির্বাচনী এলাকার সীমা নির্ধারণ, কিংবা অনুরূপ নির্বাচনী এলাকার জন্য আসন বণ্টন সম্পর্কিত যে কোনো আইনের বৈধতা সম্পর্কে আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।সীমানা নির্ধারণ আইনের ৭ ধারায় বলা হয়েছে, এই আইনের অধীনে করা সীমানা নির্ধারণ বা কোনো আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকার গঠন বা কমিশন কর্তৃক বা কমিশনের কর্তৃত্বাধীনে গৃহীত কোনো কার্যধারা বা কৃত কোনো কাজকর্মের বৈধতা সম্পর্কে কোনো আদালতে বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের নিকট কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।১৯৭৩ সালের পর ২০০৮ সালের নির্বাচনের সংসদীয় আসনের সীমানায় বড় পরিবর্তন হয়। ঢাকা জেলার আসন সংখ্যা ১৩ থেকে বৃদ্ধি করে ২০ করা হয়। চট্টগ্রাম, রাজশাহী, গাজীপুর জেলায় একটি আসন বৃদ্ধি করা হয়। কুমিল্লা, মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, সাতক্ষীরা, কিশোরগঞ্জ, শরীয়তপুর জেলায় একটি করে আসন কমে। ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার কিছু এলাকা নিয়ে গঠিত একটি আসনও কমে তখন। একইভাবে বরিশাল ও পিরোজপুরের কিছু এলাকা নিয়ে গঠিত আসন কমলেও বরিশালে আসন বৃদ্ধি পায়। কমে পিরোজপুর থেকে।২০০৮ সালেও আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের গেজেটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট হয়েছিল। তবে সীমানা নির্ধারণ ইসির দায়িত্ব এ কারণে আদালত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন।