ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে চরম ভোগান্তি নিয়ে রাজধানীতে ফিরছেন মানুষ। সড়কপথে দীর্ঘ যানজট আর থেমে থেমে চলছে বাসসহ বিভিন্ন পরিবহন। উত্তরাঞ্চলের যাত্রীদের ভোগান্তির মাত্রা ছিল চরমে। যমুনা সেতু পশ্চিম মহাসড়কে তীব্র যানজট। বাসের শিডিউলেও দেখা গেছে বড় বিপর্যয়। অনেক জায়গায় বাস ছেড়েছে শিডিউলের ১২ ঘণ্টা পর। অর্থাৎ রাতের বাস পরের দিন সকালে ঢাকার উদ্দেশে ছাড়া হয়েছে। রেলপথেও নেই স্বস্তি। নন-এসি বগিতে যেন তিল ধারণের জায়গা নেই। এমন পরিস্থিতিতে মানুষ নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ছাদে বসে ঢাকায় ফিরেছেন। গতকাল দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকায় আসা বেশির ভাগ ট্রেনই সময়মতো কমলাপুরে পৌঁছাতে পারেনি। ক্ষেত্রবিশেষে দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্তও বিলম্ব হয়েছে। সড়কে ভোগান্তি এড়াতে স্বস্তির আশায় ট্রেনকে বেছে নিয়েছিলেন অনেকে। কিন্তু তাতেও কোনো লাভ হয়নি।এদিকে সময়মতো কর্মস্থলে যোগ দিতে নৌপথে ঝুঁকি নিয়ে ঢাকায় ফিরছে দক্ষিণাঞ্চলের কর্মজীবী মানুষ। প্রায় সব লঞ্চেই ছিল অতিরিক্ত যাত্রী। সড়কেও ছিল যানবাহনের চাপ।
এবারও আগের মতো সড়ক ও নৌপথে বাড়তি ভাড়া দিতে হয়েছে মানুষকে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে যানবাহনের চাপের কারণে চলাচলে কিছুটা ধীরগতি লক্ষ করা গেছে। যাত্রীদের অভিযোগ, সড়কপথে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় পৌঁছাতে যেখানে দুই আড়াই ঘণ্টা লাগে অন্য সময়, সেখানে এখন লাগছে ৭-৮ ঘণ্টা। ঈদ শেষে ফিরতি যাত্রায় শুক্রবার রাত ৩টা থেকেই যমুনা সেতুর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের সিরাজগঞ্জ অংশে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। এর ফলে কড্ডারমোড় থেকে শুরু হয়ে যানজট ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের বিভিন্ন স্থানে। যমুনা সেতুর পশ্চিম টোল প্লাজা থেকে সায়দাবাদ রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এ যানজট আর ধীরগতির রেশ ছিল গতকালও। যমুনা সেতুর পূর্ব পাশে টাঙ্গাইল এলাকায় যানবাহন দুর্ঘটনার কবলে পড়ায় চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পাশাপাশি সেতু ও মহাসড়কে একাধিক যানবাহন বিকল হয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এ সময় যানবাহনের চাপ সামাল দিতে যমুনা সেতুর চার লেনই ঢাকাগামী যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল। গতকাল সকালের পর থেকে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হতে শুরু করে। ঠাকুরগাঁও থেকে ঢাকায় রওনা হওয়া সাংবাদিক মাহাবুর আলম সোহাগ ক্ষোভ প্রকাশ করে গণমাধ্যমকে বলেন, রাত ১টায় গাড়িতে উঠে সকাল ৬টায় এসে পৌঁছেছি সিরাজগঞ্জে। তীব্র যানজট লেগেই আছে। তিনি বলেন, এমনিতেই দেশে চলছে তেল সংকট। এরপরও ঈদে উত্তরবঙ্গের যানজটে নষ্ট হলো কয়েক লাখ টন জ্বালানি। সরকার চাইলে সেটা রক্ষা করতে পারত।
গাইবান্ধা থেকে ১৪ ঘণ্টায় বাসে ঢাকায় পৌঁছেছেন আসাদুজ্জামান সুমন। তিনি বলেন, স্বাভাবিক সময়ে যেখানে সাড়ে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা ঢাকায় আসা যায় সেখানে আড়াই গুণ সময় বেশি লেগেছে। চরম বিরক্তিকর অবস্থা। যাত্রীর চাপের কারণে গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতুর ওপর দিয়ে ৪৬ হাজার ২৭৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৪১ লাখ ৫৩ হাজার ৯০০ টাকা। যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। গতকাল চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় ফিরতে ভোগান্তিতে পড়েন সাংবাদিক ইমরান চৌধুরী। তিনি বলেন, সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম থেকে রওনা দিয়েছিলাম। মহাসড়কে তেমন যানজট না থাকলেও গাড়ির চাপ বেশি থাকায় ধীরগতিতে চলেছে। বিকাল ৪টায় রাজধানীর শনির আখড়ায় পৌঁছানোর পর শুরু হয় তীব্র যানজট। সব মিলে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পৌঁছাতে ১১ ঘণ্টা লেগেছে, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে লাগে সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা। এদিকে ছুটি শেষে মানুষ ঢাকায় ফেরায় কর্মচাঞ্চল্য ফিরছে রাজধানী ঢাকায়। গত কয়েকদিনের তুলনায় রাজধানীর সড়কে যানবাহনের উপস্থিতি বেড়েছে। যানজট না থাকলেও গতকাল উত্তরা, বিমানবন্দর ও খিলক্ষেত এলাকায় দেখা গেছে গাড়ি ধীরে ধীরে চলছে।