তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোলের বন্যা, জয়ী ইংল্যান্ডদেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হচ্ছে: মন্ত্রীজর্ডানে ইরানের হামলায় ২ মার্কিন সেনা নিহত, নিখোঁজ ১ইলেকট্রিক বাস কিনতে ৪শ কোটি টাকা চায় বিআরটিসিউত্তরে নদনদীর পানি বাড়ছে, বন্যার শঙ্কা
No icon

উত্তরে নদনদীর পানি বাড়ছে, বন্যার শঙ্কা

দেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় আগামী সোমবারের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) এক পূর্বাভাসে এই শঙ্কার কথা জানিয়েছে। ইতোমধ্যে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ভারতের উজানে ভারী বৃষ্টির কারণে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে।উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্য বেড়েছে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।উত্তর বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তাই, মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাদের উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে রংপুর বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের সর্বশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, আগামী দুদিনে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আরও বেড়ে কোথাও কোথাও বিপৎসীমা ছাড়াতে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। আবার ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি বাড়লেও এখনও বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। আগামী পাঁচ দিনে উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকার নদনদীর পানিও বাড়তে পারে। তবে সেগুলো বিপৎসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে কেন্দ্রটি।কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, জেলার কোনো নদীর পানি এখনও বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। তবে ভারতের আসাম অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির কারণে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারের পানি আরও বাড়তে পারে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি এবার বিপৎসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা কম। ফলে নদীতীরবর্তী কিছু এলাকায় পানি উঠলেও বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই।গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, জেলার সব নদীর পানি বাড়ছে। তিস্তার পানি কোথাও কোথাও বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। তবে যমুনার পানি বিপৎসীমার নিচেই থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামী দুই-তিন দিন নদীর পানি আরও বাড়বে এবং নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত হতে পারে।

চলতি মাসের শুরুতে ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার চরাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছিল। এবারও উজানে বৃষ্টির কারণে একই ধরনের পরিস্থিতির আশঙ্কায় জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ভারতের উজানে বৃষ্টির কারণে তিস্তার পানি রংপুর ও কুড়িগ্রামে আরও বাড়বে। এতে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এখনও নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।