→ পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হালজেন→ চালু হয়েছে ৩০ ব্যাংকের বন্ধ কিউ-ক্যাশের সব সেবা→ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধে কঠোর পদক্ষেপ চায় সংসদীয় কমিটি→ যেসব অঞ্চলে টানা চার দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি→ মা ইলিশ রক্ষায় সাগর-নদীতে আজ থেকে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু
No icon

জাতীয় নির্বাচন-গণভোট ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের ৮ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। আর তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে ১১ ডিসেম্বর। সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটের সময় এক ঘণ্টা বাড়তে পারে। গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ৮ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই দুটি নির্বাচন একসঙ্গে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এক-দুই দিন পরে বা ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এক-দুই দিন আগে হতে পারে। অর্থাৎ মাঝামাঝি কোনো সময় হতে পারে। ফেব্রুয়ারির ৮ তারিখ রবিবার এবং ১২ তারিখ বৃহস্পতিবার। সেই হিসাবে মঙ্গলবার নির্বাচন ও গণভোট হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।এদিকে আগামী রবিবার নির্বাচন কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণা করার কথা রয়েছে। তবে এর দু-এক দিন আগেও ঘোষণা হতে পারে বলে জানা গেছে।

ভোটগ্রহণের সময় বাড়ানোর কথা ভাবা হচ্ছে জানিয়ে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, যেহেতু গণভোট ও সংসদ নির্বাচন একদিনে হবে, তাই গোপন কক্ষের সংখ্যা বাড়ানোর কথা ভাবা হচ্ছে। আবার ভোটের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হতে পারে। তিনি বলেন, সকাল-বিকাল দুই দিকেই সময় বাড়ানোর কথা ভাবা হচ্ছে। এখন সকাল ৮টা থেকে ভোট শুরু হয়, সেটা সাড়ে ৭টা হতে পারে। আবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট হয়, সেটা সাড়ে ৫টা পর্যন্ত করার কথা ভাবা হচ্ছে।আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের ভোট সঠিকভাবে, সঠিক সময়ে করার ক্ষেত্রে গণনা যাতে বিলম্বিত না হয়, এ ব্যাপারে কমিশন সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নিজেদের প্রস্তুতি যাচাই করতে গত শনিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোটের মহড়া করে ইসি। তাতে দেখা যায়, সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পৃথক ব্যালটে হওয়ায় ভোটারদের বেশি সময় লাগছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো এবং ভোটকক্ষের গোপনকক্ষ দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা চলছে।

নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, মক ট্রায়ালে যে অভিজ্ঞতা হলো ভোটারদের ভোট দিতে একটু সময় লাগে; যার কারণে লাইন লম্বা হয়ে যেতে পারে। ভোটগ্রহণ ত্বরান্বিত করতে ভোটকক্ষ দুটি পার্ট করে ডাবল করা যায় কীভাবে সেটি ভাবা হচ্ছে। এতে মার্কিং সিল দেওয়ার গোপনকক্ষ বাড়বে। পাশাপাশি ভোটের সময় বাড়াতে পারি কি না আমরা ভাবছি। এবার প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রে ২ লাখ ৪৪ হাজার ভোটকক্ষ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। সাধারণত প্রতি কক্ষে ভোট দেওয়ার একটি গোপনকক্ষ থাকে। তবে এবার দুই ব্যালটে ভোট দিতে সময় বেশি লাগায় গোপনকক্ষ দ্বিগুণ করার ভাবনা রয়েছে ইসির।আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, রবিবারের কমিশন সভায় প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময়, বাছাই, প্রত্যাহারের শেষ সময় ও ভোটের দিন চূড়ান্ত করতে চায় ইসি। এর পর আনুষ্ঠানিকতা সেরে সপ্তাহের যে কোনো দিন তফসিল ঘোষণা করা হবে।

ভোটের দিন ঠিক করতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের কাছে ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহের পূর্বাভাস চাওয়া হয়েছে জানিয়ে ইসি কর্মকর্তারা জানান, গণভোটের জন্য সুনির্দিষ্ট দিন ঠিক করে তফসিল হবে। তবে সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমার সময় থেকে ভোটগ্রহণের মধ্যে এবার ব্যবধান দুই মাস রাখতে চায় ইসি। সেক্ষেত্রে মনোনয়নপত্র জমা এবং বাছাইয়ে তুলনামূলক বেশি সময় রাখা হতে পারে।রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল ও নিষ্পত্তির সময় মাথায় রেখে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় দেওয়া হয়ে থাকে। প্রচারণার জন্য সর্বোচ্চ তিন সপ্তাহ সময় দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সেক্ষেত্রে ১৮-১৯ দিন সময় দেওয়া হয়, কারণ ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে শেষ করতে হয় প্রচার।আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, নির্বাচনের সব ধরনের প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি। তফসিল ঘোষণার দিন-তারিখও পরবর্তী কমিশন সভায় আমরা বসে সুনির্দিষ্টভাবে সিদ্ধান্ত নেব। রবিবারের বৈঠকের পর ওই সপ্তাহের যে কোনো দিন তফসিল ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন, তফসিল ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের কথা তো আমরা আগে থেকেই বলে আসছি। সেক্ষেত্রে ৮ ডিসেম্বর থেকে যে কোনো দিন হবে। আর ভোটের তারিখও হবে ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে এমন সময়। তফসিল থেকে দুই মাস হিসাব করলে স্পেসিফিক ডেট পাওয়া যাবে। কমিশন সভায় তফসিলের বিভিন্ন দিনক্ষণ পর্যালোচনা করে কিছু আনুষ্ঠানিকতা সেরে প্রধান নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত দিনে জাতির উদ্দেশে ভাষণে তা ঘোষণা করবেন বলে জানান তিনি।ইসি কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত সাপ্তাহিক ছুটির কথা বিবেচনায় রেখে ভোটের দিন ঠিক করা হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রবিবার বা শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবারকে বেছে নেওয়া হয়। আগের অভিজ্ঞতার আলোকে এবারও ইসি সচিবালয় একাধিক দিন প্রস্তাব রাখবে, যা চূড়ান্ত করবে কমিশন।