মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন পেল ৫ প্রস্তাবশুক্রবার সকাল থেকে টানা ২৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়বিদ্যুৎ সংকট আরও বাড়বেদুপুরের মধ্যে যেসব অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়সহ বজ্রবৃষ্টির শঙ্কাহরমুজে ‘টিট ফর ট্যাট’ নৌযুদ্ধ: কে আগে নতি স্বীকার করবে?
No icon

হরমুজে ‘টিট ফর ট্যাট’ নৌযুদ্ধ: কে আগে নতি স্বীকার করবে?

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি এখন কার্যত এক টিট ফর ট্যাট নৌসংঘাতের মঞ্চে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের জবাবে ইরানের জাহাজ জব্দ ও গুলিবর্ষণ- পাল্টাপাল্টি এসব পদক্ষেপে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, এই চাপের খেলায় শেষ পর্যন্ত কে আগে নতি স্বীকার করবে?

যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা মানেই বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর সরাসরি প্রভাব বিস্তার।সম্প্রতি ইরান দুটি বিদেশি কনটেইনার জাহাজ জব্দ করেছে এবং আরও একটি জাহাজে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ইরানের দাবি, অনুমতি ছাড়া প্রণালি ব্যবহার করায় এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রও ইরান-সংযুক্ত জাহাজ আটকে দেওয়া বা ঘুরিয়ে দেওয়ার পদক্ষেপ নেয়, যা সংঘাতকে নতুন মাত্রা দেয়।

এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী বলছে, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ইরানের তেল রপ্তানি ব্যাহত করা। জবাবে ইরানও প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে, এমনকি অনুমতিভিত্তিক চলাচল ব্যবস্থাও চালু করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটি এখন সরাসরি সামরিক সংঘর্ষ নয়, বরং কৌশলগত ধৈর্যের লড়াই। উভয় পক্ষই একে অপরকে অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে চাপে রাখতে চাইছে, কিন্তু পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের ঝুঁকিও এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছে।আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি এক ধরনের নৌ-অচলাবস্থা তৈরি করেছে। প্রণালির প্রবেশ ও প্রস্থান- দুই দিকেই কার্যত ভিন্ন শক্তির নিয়ন্ত্রণ থাকায় জাহাজ চলাচল অনিশ্চয়তায় পড়েছে। এতে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হচ্ছে।

ইতিমধ্যে তেলের বাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। যুদ্ধের আগে যেখানে তেলের দাম ছিল তুলনামূলক কম, এখন তা ১০০ ডলারের ওপরে ওঠানামা করছে। বিশ্লেষকেরা আশঙ্কা করছেন, হরমুজে উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকট আরও বাড়তে পারে।তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে- এই চাপ-পাল্টা চাপ কৌশল কত দিন চলবে? যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, অর্থনৈতিক অবরোধ ও সামরিক চাপ ইরানকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করবে। অন্যদিকে ইরান বিশ্বাস করে, তারা দীর্ঘ সময় চাপ সহ্য করতে পারবে এবং প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করে তুলতে পারবে।বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত অনেকটা মানসিক যুদ্ধের মতো, যেখানে উভয় পক্ষই অপেক্ষা করছে প্রতিপক্ষের প্রথম দুর্বলতার সংকেতের জন্য। কিন্তু এই অপেক্ষা যত দীর্ঘ হবে, ততই ঝুঁকি বাড়বে- কোনো একটি ছোট ঘটনা বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে।বর্তমান বাস্তবতায় হরমুজ প্রণালি শুধু একটি জলপথ নয়, বরং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে। আর সেই ভারসাম্যের লড়াইয়ে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন- কে আগে পিছু হটবে?