সবার আগে বিশ্বকাপের নকআউটের টিকিট পেল মেক্সিকোশান্তির পথে তবু অনিশ্চয়তাযুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, চুক্তিতে অনুমোদন মোজতবা খামেনিরঅভিনেতা জাহের আলভী কারাগারেশ্রীপুরে ৬৮০ পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ
No icon

যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, চুক্তিতে অনুমোদন মোজতবা খামেনির

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা চুক্তির পর ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে চুক্তিটি অনুমোদনের কথা জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তবে তিনি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হতাশা থেকে নানা ধরনের চাপ প্রয়োগ করে এই চুক্তি করতে বাধ্য হয়েছেন।বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে কিছু মার্কিন যুদ্ধজাহাজ অঞ্চলটিতে অবস্থান করবে।এর কিছুক্ষণ পর দেওয়া এক বক্তব্যে মোজতবা খামেনি বলেন, চুক্তি নিয়ে তার ভিন্ন মত থাকলেও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের আশ্বাসের ভিত্তিতে তিনি এতে সম্মতি দিয়েছেন। তার ভাষ্য, ইরানের জনগণের অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পরই তিনি চুক্তিটি অনুমোদন করেন।

চুক্তি প্রসঙ্গে খামেনি বলেন, ভবিষ্যতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান মেনে নিচ্ছে।গত মার্চে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বললেন খামেনি। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তার বাবা ও সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর আঞ্চলিক সংঘাতের সূত্রপাত হয়।এদিকে ট্রাম্প সরাসরি খামেনির বক্তব্যের জবাব না দিলেও নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ইরান ও ইসরায়েল-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাতসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে বলে তিনি আশা করছেন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে চলমান আলোচনার প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।১৪ দফার এই সমঝোতা চুক্তির অন্যতম শর্ত হলো হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া এবং দেশটির পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠন। এছাড়া সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতা সুইজারল্যান্ডে হওয়ার কথা থাকলেও মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান জানিয়েছে, দুই পক্ষ ইতিমধ্যে দূরবর্তী পদ্ধতিতে চুক্তি সম্পন্ন করায় আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে সুইজারল্যান্ডে আরও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।এদিকে চুক্তিটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভেতরেও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ইরানের পুনর্গঠন তহবিল এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতার বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তুলেছেন অনেক রিপাবলিকান নেতা ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা।তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স চুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছেন, ইরান চুক্তির শর্ত পূরণ না করলে কোনো অর্থ বা নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সুবিধা পাবে না। তার দাবি, সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরানকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংস করতে হবে এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন বন্ধের প্রমাণ দিতে হবে।