হরমুজ সংকট নিয়ে আলোচনা করতে ওমানে আব্বাস আরাগচিইরানের সাথে ফের আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ ট্রাম্পেরবান্দরবানে সব পর্যটনকেন্দ্র ১৫ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণাহরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত ঘোষণার শর্তে নতুন আলোচনায় বসবে যুক্তরাষ্ট্রঢাকা মেডিক্যালে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
No icon

ট্রাম্পের বাধা পেরিয়ে খুলছে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সংযোগ সেতু

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে নির্মিত ‘গর্ডি হাউ ইন্টারন্যাশনাল ব্রিজ’ আগামী ২৭ জুলাই জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আপত্তি ও হুমকির কারণে উদ্বোধন নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা কাটিয়ে সেতুটি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কানাডার অবকাঠামো মন্ত্রণালয় গত শুক্রবার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পূর্ণ সমর্থন নিয়েই নির্ধারিত সময়ে সেতুটির কার্যক্রম শুরু হবে। নতুন এই যোগাযোগ ব্যবস্থা দুই দেশের সীমান্ত বাণিজ্য, যাতায়াত এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে কানাডা সরকার।

প্রায় ৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার বা ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুটি যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েট এবং কানাডার অন্টারিও প্রদেশের উইন্ডসর শহরকে যুক্ত করেছে।

২০১৮ সালে শুরু হওয়া সেতুটির নির্মাণকাজ কয়েক বছর ধরে চলার পর গত মাসে উদ্বোধনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কিছু আপত্তি ও প্রযুক্তিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু হলে উদ্বোধন পিছিয়ে যায়। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, সেতুটি নির্মাণের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ন্যায্য আচরণ করা হয়নি। তিনি এর মালিকানায় যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারত্ব দাবি করে প্রকল্পটি আটকে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন।

পরে দুই দেশের মধ্যে নতুন সমঝোতা হওয়ার পর ট্রাম্প কানাডা সরকারকে ধন্যবাদ জানান। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, নতুন চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আগের চেয়ে ভালো সুবিধা পেয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, নতুন চুক্তিটি তার কাছে আরও গ্রহণযোগ্য ও ন্যায্য। এর ফলে ডেট্রয়েট ও উইন্ডসরের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী এই গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্ধারিত সময়েই চালু হচ্ছে।

উইন্ডসর-ডেট্রয়েট ব্রিজ অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, সেতুটির নির্মাণ ব্যয়ের পুরো অর্থায়ন করেছে কানাডা। তবে এটি যৌথভাবে কানাডা সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের মালিকানায় থাকবে। কানাডিয়ান হকি কিংবদন্তি গর্ডি হাউ-এর নামে নামকরণ করা এই সেতুকে দুই দেশের বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। চালু হওয়ার পর এটি উত্তর আমেরিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত যোগাযোগ ব্যবস্থায় পরিণত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তথ্যসূত্র: খালিজ টাইমস