১৭ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কসংকেতসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনাফ্যাসিস্ট পতনের আন্দোলনের মিত্রদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজযে কারণে আর্জেন্টিনা-স্পেনের ফুটবলারদের ধাক্কাধাক্কিসাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালকে ফেরত চেয়ে দিল্লিকে ঢাকার চিঠি
No icon

ফিলিস্তিনের পাশে থাকায় স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে মুসলিম বিশ্বে উল্লাস

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে স্পেনের বিশ্বজয় কেবল একটি ক্রীড়াক্ষেত্রের মহাকাব্যিক অর্জনই নয়, বরং এটি বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষের কাছে এক অনন্য নৈতিক বিজয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বে স্পেনের এই ট্রফি জয় নিয়ে ব্যাপক উদ্দীপনা ও উল্লাস দেখা গেছে।

সাধারণত ফুটবলের মাঠের লড়াই নিয়ে উম্মাদনা থাকলেও, এবারের বিশ্বকাপে স্পেনের প্রতি মুসলিম দেশগুলোর এই বিপুল সমর্থনের নেপথ্যে রয়েছে ফিলিস্তিন ইস্যুতে দেশটির নীতিগত ও মানবিক অবস্থান। ২০২৪ সালের মে মাসে স্পেন আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয় এবং গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠা, মানবিক সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার জন্য বারবার জোরালো আহ্বান জানায়। ইউরোপের অন্যান্য পরাশক্তিগুলোর চেয়ে স্পেনের এই স্বতন্ত্র ও সাহসী অবস্থান মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

টুর্নামেন্ট যত এগিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা এবং দক্ষিণ এশিয়াসহ পুরো মুসলিম বিশ্বে ‘লা রোজা’দের জন্য সমর্থন ততটাই বেড়েছে। মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কা থেকে শুরু করে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর পর্যন্ত ফুটবলপ্রেমীদের কাছে স্পেনের এই জয় কেবল একটি সোনালী ট্রফি উঁচিয়ে ধরার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। সমর্থকরা বলছেন, ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও মর্যাদার পক্ষে যে দেশ প্রকাশ্যে দাঁড়ানোর সাহস দেখিয়েছে, এই সমর্থন ছিল মূলত সেই মূল্যবোধ ও ন্যায়বিচারের প্রতি সংহতি।

বিশ্বকাপের এই মঞ্চে কেবল স্পেনই নয়, নরওয়েও মানবিক দায়িত্বের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচের আগে নরওয়েজীয় ফুটবল ফেডারেশন ঘোষণা করেছিল যে, ম্যাচ থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ 'ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস'-এর মাধ্যমে গাজায় মানবিক সহায়তার জন্য দান করা হবে। বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগে তারা উদাসীন থাকতে পারে না বলেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নরওয়ে।

ক্রীড়াঙ্গন সবসময়ই রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে। তবে স্পেনের এই বিশ্বজয় প্রমাণ করল, একটি দেশ কেবল মাঠের দক্ষতার জন্যই নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে তারা কোন মানবিক মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করছে, তার জন্যও মানুষের হৃদয়ে চিরস্থায়ী আসন করে নিতে পারে।