ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযানের খরচ এবং অভ্যন্তরীণ বেশ কিছু কর্মসূচি বাস্তবায়নে ৯৫ বিলিয়ন ডলারের একটি নতুন বাজেট ফ্রেমওয়ার্ক পাস করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস (প্রতিনিধি পরিষদ)। বুধবার প্রতিনিধি পরিষদে তুমুল ভোটাভুটির পর ২১৬-২১৪ ভোটের সামান্য ব্যবধানে বিলটি পাস হয়।
সংকীর্ণ ব্যবধানে পাস হওয়া এই বাজেট প্রস্তাবটি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মার্কিন সিনেটে পাঠানো হয়েছে। তবে সিনেটে বিলটির ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত।
পাস হওয়া এই বাজেট প্যাকেজের বড় অংশ—প্রায় ৭৩ বিলিয়ন ডলার—বরাদ্দ রাখা হয়েছে পেন্টাগন ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য, যা মূলত ইরান যুদ্ধের সামরিক ব্যয় মেটাতে ব্যবহৃত হবে। এছাড়া, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত আমেরিকান কৃষকদের সহায়তার জন্য ১২ বিলিয়ন ডলার এবং ট্রাম্পের বহুল আলোচিত ভোটিং বিধিনিষেধ ও নির্বাচন সংক্রান্ত কর্মসূচির জন্য আরও ১০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান পার্টির জন্য এটিকে একটি বড় আইনি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করবে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকবে কি না।
বিলটি পাসের পর হাউস স্পিকার মাইক জনসন বলেন, "এই প্রস্তাবটি মার্কিন নির্বাচনকে সুরক্ষিত করা এবং আমাদের মাতৃভূমিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্য পূরণে বড় ভূমিকা রাখবে।"
অন্যদিকে ডেমোক্রেটিক প্রতিনিধি রোসা দেলাউরো এই বাজেট প্রস্তাবের কড়া সমালোচনা করে বলেন, "আমেরিকান জনগণ মধ্যপ্রাচ্যে আর কোনো অনির্দিষ্টকালের ব্যয়বহুল এবং প্রাণঘাতী যুদ্ধ চায় না। মুদ্রাস্ফীতির এই সময়ে মানুষ চায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, বাড়িভাড়া ও স্বাস্থ্যসেবার খরচ কমুক।"