→ সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আরেকটি সুখবর→ একাদশে দ্বিতীয় ধাপে ভর্তির আবেদন শুরু আজ→ প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ না পাওয়া প্রার্থীদের যে বার্তা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী→ ৫ গোলের দারুণ লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারাল স্পেন→ দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী
No icon

ছাত্র আন্দোলনের মুখে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার ভুচিচর পদত্যাগ

সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার ভুচিচ পদত্যাগ করেছেন। এক বছরের বেশি সময় ধরে ছাত্রদের নেতৃত্বে আন্দোলন চলছিল। সরকারের দুর্নীতির অভিযোগে সাধারণ মানুষের ক্ষোভও বাড়ছিল। এর মধ্যেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিলেন। রাজধানী বেলগ্রেডে প্রেসিডেন্ট ভবনের বাইরে সমর্থকদের সামনে তিনি কথা বলেন। ভুচিচ বলেন, তার নয় বছরের শাসনে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় ছিল। জুন মাসেই তিনি পদত্যাগের ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি এখন আসন্ন সংসদ নির্বাচনে নিজের দলের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হতে চাইছেন। সংবিধান অনুযায়ী তিনি তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট পদে দাঁড়াতে পারেন না। 

রাশিয়াপন্থী এই জনতুষ্টিবাদী নেতার সরকার শুরু থেকেই ক্ষোভের মুখে ছিল। অভিযোগ ছিল, নির্মাণকাজে নিয়ম না মেনে খরচ কমানো হয়েছে। ২০২৪ সালে নভি সাদ রেলস্টেশনের ছাদ ভেঙে পড়ে। এতে ১৬ জন মারা যান। এই ঘটনাই প্রথম সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ উসকে দেয়।

আন্দোলনে নামেন নানা পেশার মানুষ। ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিক ও কৃষকরা রাস্তায় নামেন। এতে সমর্থন জুগিয়েছিলেন দেশটির টেনিস তারকা নোভাক জকোভিচ। তবে ইতিহাসের সেরা এই টেনিস কিংবদন্তিকে শেষমেশ এই সমর্থনের কারণে দেশ ছাড়তে হয়।

আন্দোলনকারীরা মনে করেন, ওই দুর্ঘটনা আসলে ভুচিচের দল প্রোগ্রেসিভ পার্টির এক যুগেরও বেশি শাসনের ব্যর্থতার প্রতিফলন। স্টেশনটির সংস্কারের সঙ্গে ভুচিচ নিজেকে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়েছিলেন। সেটি ছিল সার্বিয়ার অগ্রগতির প্রতীক হওয়ার কথা।

ভুচিচের অধীনে থাকা কয়েকজন কর্মকর্তা একে একে পদত্যাগ করেন। তবে তাতে আন্দোলনকারীরা শান্ত হননি। গ্রীষ্মজুড়ে বিক্ষোভ চলতে থাকে। পুলিশের নির্যাতনের অভিযোগের পর বিক্ষোভ অশান্ত হয়ে ওঠে।

ভুচিচের মেয়াদ আগামী বছর শেষ হওয়ার কথা ছিল। সংবিধান অনুযায়ী, পদত্যাগের তিন মাসের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হয়। তাই এ বছর শেষ হওয়ার আগেই সার্বিয়ার মানুষ দুইবার ভোট দেবেন। ভুচিচ জানান, অক্টোবরের শেষ দিকে আগাম সংসদ নির্বাচন হবে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে তার এক মাসেরও বেশি পরে। আন্দোলনের চাপেই এই আগাম সংসদ নির্বাচনের ডাক দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবির তালিকায় ভোটের দাবিও যোগ হয়েছিল।

আগেই ভুচিচ জানিয়েছিলেন, তিনি ওই নির্বাচনে প্রোগ্রেসিভ পার্টির নেতা হিসেবে লড়বেন। ফলে সার্বিয়ার রাজনীতির শীর্ষ পদে তার থেকে যাওয়ার সুযোগ থাকছে।