→ তিন বছরের ধ্বংস্তূপে পরিণত পুরো গাজা→ দুপুরের মধ্যে ৭ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা→ মধ্যরাতে ছাপাখানায় শিক্ষামন্ত্রী, যাচাই করলেন বইয়ের মান→ রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির লক্ষ্যে অধ্যাদেশ সংশোধনের অনুমোদন→ জাতিসংঘ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন
No icon

নিরাপত্তা ঝুঁকি উপেক্ষা করেই রোহিঙ্গা ফেরত পাঠাতে শুরু করেছে মালয়েশিয়া

জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তীব্র সতর্কতা সত্ত্বেও প্রায় ১,৫০০ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে মালয়েশিয়া। দেশটির সরকারের দাবি, এই প্রত্যাবর্তন সম্পূর্ণ "স্বেচ্ছামূলক"।


মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) উত্তর-পশ্চিম মালয়েশিয়ার লুমুত নৌঘাঁটির কাছের একটি স্টেডিয়ামে পুলিশ প্রহরায় ডজনখানেক বাস এসে পৌঁছায় বলে নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি। নিরাপত্তা বিধিনিষেধের কারণে সাংবাদিকদের ঘটনা স্থলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। যাত্রীদের প্রাথমিক আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে নৌঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখান থেকে জাহাজে করে তাদের মিয়ানমারে পাঠানো হবে। 

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী দীর্ঘদিন ধরেই দেশটির সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে ২০১৭ সালের নৃশংসতার কারণে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাধ্য হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখেরও বেশি এবং মালয়েশিয়ায় ১ লাখ ২৬ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয়ে রয়েছে। তবে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের নিজস্ব জাতিগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি না দিয়ে তাদের "বাঙালি" বা বাংলাদেশি অভিবাসী বলে আখ্যা দেয়।

মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজ এবং একটি হাসপাতাল জাহাজ ব্যবহার করা হচ্ছে। 

মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘের উদ্বেগ
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা এই প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত নয়। সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে, মিয়ানমারে অব্যাহত সংঘাত ও সহিংসতার কারণে সেখানে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের উপযুক্ত পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি।

আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল কাউন্সিলের (এআরএনসি) সহ-সভাপতি নে সান লুইন আল জাজিরাকে বলেন, "রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা কখনই থামেনি। এই পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো মানে তাদের এক ডেথ ট্র্যাপ বা নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া। রাখাইনে আরাকান আর্মি ও সামরিক বাহিনীর লড়াইয়ের মাঝে পড়ে রোহিঙ্গারা দুই তরফ থেকেই নৃশংসতার শিকার হচ্ছে।"

কক্সবাজারের 'সেন্টার অব রোহিঙ্গা ক্রাইসিস স্টাডিজ'-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান রো মায়্যু ইসলাম বলেন, "মালয়েশিয়ার বন্দিশালা থেকে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে স্থানান্তর করাটা কোনো সমাধান হতে পারে না। যে কারণে তারা পালাতে বাধ্য হয়েছিল আগে তার সমাধান করা দরকার। আমরা অধিকার ও নাগরিকত্ব নিয়ে নিজেদের ভিটায় ফিরতে চাই।"


বেসরকারি সংস্থা ‘ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস’ (এমএসএফ)-সহ ১৬০টিরও বেশি নাগরিক সমাজ সংগঠন এই পদক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছে। তারা সতর্ক করেছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ফেরত পাঠানো হলে রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক সশস্ত্র গোষ্ঠীতে নিয়োগ করা হতে পারে।

মালয়েশিয়া সরকারের অবস্থান
মালয়েশিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল দাবি করেছেন, কারও জীবন যদি হুমকির মুখে থাকে তবে তাকে ফেরত পাঠানো হবে না। এর আগে গত জুলাই মাসে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছিলেন, মিয়ানমার ৫,০০০ রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে সম্মত হয়েছে। এমনকি প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত করতে তিনি মিয়ানমার জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইংকে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানানোর ইচ্ছাও প্রকাশ করেছিলেন।

তবে বাস্তবে ফেরত যাওয়া রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ এখনো অন্ধকার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অ্যাক্টিভিস্ট আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ফেরত যাওয়া ব্যক্তিদের হয়তো স্থায়ী আবাসের পরিবর্তে কোনো অস্থায়ী বাস্তুচ্যুত ক্যাম্পে আটকে রাখা হবে।

উল্লেখযোগ্য যে, মালয়েশিয়া ১৯৫১ সালের আন্তর্জাতিক শরণার্থী কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ নয়। ফলে সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে রোহিঙ্গাদের ‘শরণার্থী’ হিসেবে কোনো আইনি স্বীকৃতি নেই। সম্প্রতি দেশটির ভেতর অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের ওপর প্রশাসনিক কড়াকড়ি বৃদ্ধি পাওয়ায় এই জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত হচ্ছে।