যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র দুই দিন বাকি। শেষ মুহূর্তে ভোটারদের মন জয়ে জোর প্রচার চালাচ্ছেন ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান নেতারা। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ নির্বাচনি প্রচারের অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে।
সর্বশেষ জনমত জরিপে রিপাবলিকানদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। রিয়েলক্লিয়ারপলিটিকসের জরিপের গড় হিসাবে, ডেমোক্র্যাটদের প্রতি সমর্থন ৫১ দশমিক ৫ শতাংশ, আর রিপাবলিকানদের ৪৩ দশমিক ১ শতাংশ। তবে সিনেটের কয়েকটি হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ফলই কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
রোববার আইওয়া ও কানসাসে নির্বাচনি সমাবেশ করার কথা রয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। অন্যদিকে, ইসলামবিদ্বেষী আক্রমণের মুখে থাকা ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ মিশিগানের ডেট্রয়েট ও সাউথফিল্ডে প্রচার চালাবেন।
জরিপে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা
ওয়াশিংটন পোস্ট-শার স্কুলের এক জরিপে কানসাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিল্টন রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালের চেয়ে ৯ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। তবে এমারসন কলেজের জরিপে ব্যবধান মাত্র ৩ পয়েন্ট।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার অন্যতম কারণ। তবে রিপাবলিকান ভোটারদের জরিপে অংশগ্রহণ কম হওয়ায় প্রকৃত জনসমর্থনের চিত্রে পার্থক্য থাকতে পারে।
অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় প্রচারের মূল ইস্যু
নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে দুই দলই অর্থনীতি, জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। ট্রাম্প রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে টেলিফোনে প্রচার চালাচ্ছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় রিপাবলিকানদের সুস্পষ্ট বার্তার ঘাটতি রয়েছে।
অন্যদিকে, আল-সাইয়েদ রাজনীতিতে অর্থের প্রভাব কমানো, মানুষের পকেটে অর্থ ফেরানো এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাইছেন।
৫ কোটি ছাড়িয়েছে আগাম ভোট
এ পর্যন্ত ৫ কোটি ১০ লাখের বেশি মার্কিন নাগরিক আগাম ভোট দিয়েছেন। তবে আগাম ভোটের সংখ্যা দিয়ে কোনো দলের জয়ের সম্ভাবনা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। নির্বাচনের ফল নির্ধারণে ভোটার উপস্থিতি, বিশেষ করে তরুণ ও নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাবে
মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি এবং সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোট হবে। উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ডেমোক্র্যাটদের প্রতিনিধি পরিষদে নিট তিনটি এবং সিনেটে চারটি আসন বাড়াতে হবে।
জরিপে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি দেখা গেলেও সিনেটের লড়াই এখনো অনিশ্চিত। মিশিগান, টেক্সাস, কানসাস, আইওয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা ও আলাস্কার ফল বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
রোববার ও সোমবার শেষ মুহূর্তের প্রচার চালাবেন প্রার্থীরা। মঙ্গলবার ভোটগ্রহণ শেষে পর্যায়ক্রমে ফল প্রকাশ শুরু হবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনের ফল জানতে আরও সময় লাগতে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা