→ আগামী ৩ দিন আবহাওয়া কেমন থাকবে, জানাল অধিদপ্তর→ নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্যের শপথগ্রহণ আজ→ সব সরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা→ আগারগাঁও মেট্রো স্টেশনসহ ঢাকার দুই স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ→ হরমুজ প্রণালি খুলতে ইরানের নতুন প্রস্তাব
No icon

তিন দশক পর যুক্তরাষ্ট্রে হামে শিশুর মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে হামে আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ৩০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে অঙ্গরাজ্যটিতে এ রোগে মৃত্যুর এটিই প্রথম ঘটনা। সোমবার নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ ও লুইস কাউন্টির জনস্বাস্থ্য বিভাগ শিশুটির মৃত্যুর খবর জানায়। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্যজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে লুইস কাউন্টির টিকা না নেওয়া শিশুটি আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।

শিশুটির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হচুল। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, একজন মা ও দাদি হিসেবে পরিবারটি এখন কী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা তিনি কল্পনাও করতে পারছেন না। শিশুটিকে চিনতেন ও ভালোবাসতেন, এমন সবার প্রতি সমবেদনা জানান তিনি।

গভর্নর বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক ও বিপজ্জনক রোগ। এ রোগ থেকে সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা নেওয়া। নিউইয়র্কে গত ৩০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে হামে মৃত্যুর ঘটনা এটিই প্রথম বলে উল্লেখ করে তিনি একে ভয়াবহ সতর্কবার্তা হিসেবে বর্ণনা করেন।

মারা যাওয়া শিশুটির পরিচয়, বয়স কিংবা লিঙ্গ প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। নিউইয়র্কে এর আগে সর্বশেষ হামে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল ১৯৯০ সালের মার্চ থেকে ১৯৯১ সালের গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত। ওই সময় নিউইয়র্ক সিটিতে বড় ধরনের হামের প্রাদুর্ভাবে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয় এবং হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হন।

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের উত্তরাঞ্চলের গ্রামীণ এলাকা নর্থ কান্ট্রির লুইস কাউন্টিতে চলতি বছর হামে আক্রান্তের সংখ্যা অঙ্গরাজ্যের জেলাগুলোর মধ্যে চতুর্থ সর্বোচ্চ। গত সপ্তাহ পর্যন্ত সেখানে ১৫ জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে সেনেকা কাউন্টিতে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—৩০ জন।

লুইস কাউন্টির জনস্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর সেখানে শনাক্ত হওয়া ১৫ জনের কেউই হাম প্রতিরোধী টিকা নেননি। সংক্রমণ বাড়তে থাকায় গত মাসে অঙ্গরাজ্যটিতে জরুরি নির্বাহী আদেশ জারি করেন গভর্নর ক্যাথি হচুল। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং আরও বেশি মানুষকে এমএমআর (হাম, মাম্পস ও রুবেলা) টিকা দেওয়ার সুযোগ বাড়ানো ছিল এ আদেশের উদ্দেশ্য।

জরুরি অবস্থার আওতায় এখন নার্সরাও হাম শনাক্তের পরীক্ষার নির্দেশ দিতে পারবেন। পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা, তাঁদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা এবং পরীক্ষার ফল দ্রুত নিশ্চিত করতে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে অতিরিক্ত সহায়তা দেবে রাজ্য প্রশাসন।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সবাইকে এমএমআর টিকার প্রয়োজনীয় ডোজ নেওয়া আছে কি না, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে টিকা না নেওয়া শিশুদের নিয়ে ভ্রমণের সময় স্বাস্থ্যবিধি ও সতর্কতা মেনে চলতে বলেছেন তাঁরা।নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। এটি গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে এবং মৃত্যুর কারণও হতে পারে। এ রোগ থেকে সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায় টিকা নেওয়া।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলমান প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় লুইস কাউন্টিতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। হামের ভাইরাস বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি, হাঁচি বা কথা বলার সময় ভাইরাস ছড়াতে পারেন। এমনকি আক্রান্ত ব্যক্তি কোনো জায়গা ছেড়ে যাওয়ার পরও সেখানে বাতাসে থাকা ভাইরাসের মাধ্যমে টিকা না নেওয়া কেউ দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সংক্রমিত হতে পারেন।