→ ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল পানামা, ভয়াবহ ক্ষতির শঙ্কা→ ভারতে রপ্তানি বাধা ও অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার চায় বাংলাদেশ→ মধ্যরাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ→ দিল্লিতে বিমান থেকে আটক সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা দীপকে→ ধানক্ষেতজুড়ে ধস্তাধস্তির চিহ্ন পড়ে ছিল কিশোরীর মরদেহ
No icon

মানসিক স্বাস্থ্য ভালো করতে অসুবিধা হলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত

আজ ১০ অক্টোবর, বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং মানসিক সুস্থতার গুরুত্ব তুলে ধরতে প্রতিবছর এ দিনটি পালন করা হয়। শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়াও জরুরি। কাজের চাপ, ব্যক্তিগত জীবনের নানা সমস্যা, অনিয়মিত ঘুম ও দৈনন্দিন ব্যস্ততা মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘদিন মানসিক চাপের মধ্যে থাকলে দৈনন্দিন কাজ, সম্পর্ক ও স্বাভাবিক জীবনযাপনেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।

মানসিকভাবে ভালো থাকতে নিজের অনুভূতির প্রতি যত্নশীল হওয়া, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কাছের মানুষের সহায়তা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনে কিছু সহজ অভ্যাস যুক্ত করেও মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া সম্ভব। বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে জেনে নেওয়া যাক, মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার ১০টি উপায়।

 

১. পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন

মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম প্রয়োজন। ঘুমের ঘাটতি মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি ও মেজাজের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। 

তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুলুন। ঘুমানোর আগে মোবাইল ফোনের ব্যবহার কমানোও সহায়ক হতে পারে।

 

২. নিয়মিত শরীরচর্চা করুন

শরীরচর্চা শুধু শারীরিক সুস্থতার জন্য নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। নিয়মিত হাঁটা, সাইকেল চালানো, হালকা ব্যায়াম বা পছন্দের কোনো শারীরিক কর্মকাণ্ড মানসিক চাপ কমাতে ও মেজাজ ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত সক্রিয় থাকুন। 

৩. সুষম খাবার খান

খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে মানসিক সুস্থতার সম্পর্ক রয়েছে। নিয়মিত সুষম খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা এড়িয়ে চলা জরুরি। খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফল, মাছ, ডাল, ডিম ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখুন। অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ কমালে ঘুমের সমস্যাও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুবিধা হতে পারে।

৪. নিজের জন্য সময় রাখুন

প্রতিদিনের ব্যস্ততার মধ্যে নিজের পছন্দের কাজের জন্য কিছুটা সময় বের করুন। বই পড়া, গান শোনা, বাগান করা, রান্না করা কিংবা প্রকৃতির মধ্যে কিছুক্ষণ সময় কাটানো মনকে সতেজ রাখতে সাহায্য করতে পারে। সব সময় কাজের মধ্যে না থেকে বিশ্রাম নেওয়াও প্রয়োজন। 

৫. কাছের মানুষের সঙ্গে কথা বলুন

মনের মধ্যে জমে থাকা কষ্ট, দুশ্চিন্তা বা চাপ বিশ্বাসযোগ্য কারও সঙ্গে ভাগ করে নিলে স্বস্তি পাওয়া যেতে পারে। পরিবারের সদস্য, বন্ধু কিংবা কাছের কোনো মানুষের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলুন। সব সমস্যার সমাধান সঙ্গে সঙ্গে না মিললেও নিজের অনুভূতি প্রকাশ করা মানসিক চাপ সামলাতে সহায়ক হতে পারে।

৬. মানসিক চাপ সামলানোর কৌশল শিখুন

দৈনন্দিন জীবনে চাপ আসতেই পারে। তবে সেই চাপ কীভাবে সামলানো হচ্ছে, তা গুরুত্বপূর্ণ। ধীরে ধীরে শ্বাস নেওয়া, ধ্যান, প্রার্থনা কিংবা নিরিবিলি বসে কিছুক্ষণ নিজের অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করতে পারেন। কোন বিষয়গুলো আপনাকে বেশি চাপে ফেলে, তা শনাক্ত করে প্রয়োজন অনুযায়ী কাজের পরিকল্পনা করাও উপকারী।

৭. কাজের পাশাপাশি বিশ্রাম নিন

একসঙ্গে অনেক কাজ করার চেষ্টা করলে মানসিক ক্লান্তি বাড়তে পারে। তাই কাজকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করুন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিরতি নিন। সব দায়িত্ব একা পালন করার চেষ্টা না করে প্রয়োজন হলে অন্যের সহায়তা নিন। নিজের সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব নেওয়া এড়িয়ে চলাও গুরুত্বপূর্ণ।

৮. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সীমা রাখুন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবনযাপনের সঙ্গে নিজের জীবনের তুলনা করলে হতাশা বা অপ্রাপ্তির অনুভূতি তৈরি হতে পারে। অনলাইনে অতিরিক্ত সময় কাটানোর কারণে ঘুম ও দৈনন্দিন কাজেও ব্যাঘাত ঘটতে পারে। তাই ব্যবহারের সময় নির্ধারণ করুন এবং প্রয়োজন হলে কিছু সময়ের জন্য বিরতি নিন।

৯. নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিন

সব সময় ভালো থাকা সম্ভব নয়। কখনো মন খারাপ হওয়া, উদ্বিগ্ন বোধ করা কিংবা কোনো কাজে আগ্রহ কমে যাওয়া স্বাভাবিক অভিজ্ঞতার অংশ হতে পারে। এসব অনুভূতিকে অবহেলা না করে নিজের প্রয়োজন বোঝার চেষ্টা করুন। অন্যের সঙ্গে নিজেকে তুলনা না করে নিজের অগ্রগতি ও ছোট ছোট অর্জনকে গুরুত্ব দিন।

১০. প্রয়োজন হলে পেশাদার সহায়তা নিন

দীর্ঘদিন মন খারাপ থাকা, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, ঘুমের সমস্যা কিংবা দৈনন্দিন কাজ করতে অসুবিধা হলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। এসব সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, মনোবিজ্ঞানী বা উপযুক্ত মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর পরামর্শ নিন। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সহায়তা চাওয়া দুর্বলতার লক্ষণ নয়; বরং নিজের যত্ন নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।