ধর্ম-বর্ণ পরিচয়ের কারণে কেউ যাতে আক্রান্ত না হয়- ভারতের প্রতি এ আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি জয়ী হওয়ার পর সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর হামলা, নিপীড়নের ঘটনায় সাংবাদিকদের প্রশ্নে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গসহ পৃথিবীর কোথাও জুলুম করা হলে বিপক্ষে থাকব। কোনো ধর্ম-বর্ণ বা গোত্রকে লক্ষ্য করে যেন কারও ক্ষতি না করা হয়, সে বিষয়ে ভারত সরকারকে আহ্বান জানাই।
৮ দিনের জাপান সফর শেষে আজ শনিবার ঢাকায় ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এ কথা বলেছেন জামায়াত আমির। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে শুধু একটা চুক্তি না, বহু অসম চুক্তি আছে। আমরা সবগুলা চুক্তিকে বাস্তবতার আলোকে দেখার পক্ষে।’
গত ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে অন্তর্বর্তী সরকার। এখনও কার্যকর না হলেও বিএনপি সরকার চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কিনতে যাচ্ছে। বাণিজ্য চুক্তির কারণে বাংলাদেশের জন্য মার্কিন পাল্টা শুল্ক কমলেও বাংলাদেশের জন্য তা অসম বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ে প্রশ্নে শফিকুর রহমান বলেন, পাইকারি ও খুচরা বাজারে যাব। যেখান থেকে মালামাল আসে, সেখানেও যাব। উৎপাদনস্থলে দাম কত; আসার পর পাইকারি বাজারে, খুচরা বাজারে কী দাম, তা যাচাই করে জামায়াত ভূমিকা নেবে। চুপ থাকবে না।
জাপান সফর সম্পর্কে শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সফর ছিল। লক্ষ্য করেছি, বাংলাদেশ নিয়ে ভাবে জাপান। তারা বলেছে, ‘বাংলাদেশের বর্তমান সংসদ অতীতের চেয়ে ব্যতিক্রম। বিরোধীদল সরকারের কাজের প্রতিবাদ এবং সহযোগিতা দুই-ই করছে’।
জামায়াত আমির জাপান থেকে ব্যাংকক হয়ে ঢাকায় ফেরেন। শনিবার সকালে ব্যাংককে হাসপাতালে আহত চিকিৎসাধীন জুলাই যোদ্ধাদের দেখতে যান তিনি। শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই যোদ্ধাদের কষ্ট ভাগ করে নিতে আমরা হাসপাতালে গিয়েছিলাম। সরকারকে বলব, আহতদের অনেকের গোটা পরিবারই ‘ট্রমাটাইজড’। সরকারকে অনুরোধ করব, আরও যারা বাকি আছে, সবার দায় সরকারকে নিতে হবে। তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা করাতে হবে। তিনজন আহত আছেন, যাদের ব্যাংককের চিকিৎসায়ও হচ্ছে না, তাদের সিঙ্গাপুরে নিতে হবে।
বিমানবন্দরে জামায়াত আমিরকে স্বাগত জানান দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি প্রমুখ।