বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেছেন, ট্রেড ইউনিয়ন ময়দানকে স্বাধীন রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রশাসনিক বা আইনি হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। ট্রেড ইউনিয়নের স্বাধীন বিকাশ ও শ্রমিকদের সাংগঠনিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
দেশব্যাপী ট্রেডভিত্তিক দাওয়াতি পক্ষ উপলক্ষে রোববার (২১ জুন) বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের হলরুমে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠন হলো বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন। এ আন্দোলনকে কীভাবে আরও বেগবান, শ্রমিকবান্ধব ও গণমুখী করা যায় এবং সাধারণ শ্রমিকদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করা যায়, তা নির্ধারণের লক্ষ্যে জাতীয়ভাবে এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা যে মানের ট্রেড ইউনিয়ন গড়ে তুলতে চাই, সেখানে আমাদের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে করণীয় নির্ধারণ করে শ্রমিক আন্দোলনকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার যেভাবে ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনকে এককেন্দ্রিক করার চেষ্টা করেছিল, বর্তমান সরকারও অনেক ক্ষেত্রে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখছে। গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের পর শ্রমিকদের সাংগঠনিক অধিকার আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে সে ধরনের পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
শ্রম আইন সংশোধনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে একটি পেশায় কমপক্ষে পাঁচটি ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত থাকলেও পরবর্তীতে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই নতুন গেজেটে তা তিনটিতে সীমিত করা হয়েছে। এর ফলে নতুন সংগঠন গঠনের সুযোগ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগ নিলে এখনও অনেক শ্রমিক হয়রানির শিকার হন। চাকরিচ্যুতি, বদলি, পদোন্নতির নামে সংগঠন থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া কিংবা অন্যান্য চাপ প্রয়োগের ঘটনা ঘটছে। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে দায়ী মালিকদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
আউটসোর্সিং শ্রমিকদের বিষয়ে অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, আইনে ছয় মাসের বেশি সময় কোনো শ্রমিককে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কাজে রাখার সুযোগ নেই। কিন্তু বাস্তবে অনেক প্রতিষ্ঠানে বছরের পর বছর আউটসোর্সিং শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। সরকারকে এ বিষয়ে আইন বাস্তবায়নে আরও কঠোর হতে হবে।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে লেবার কোর্টের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করতে হবে। বছরের পর বছর মামলা ঝুলে থাকলে শ্রমিকরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালাম। মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা মিঠুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি কবির আহমেদ, মহানগরী সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান, মাহবুবুর রহমান, জোবায়ের আল মাহমুদ, ওমর ফারুকসহ বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।
সভায় শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন শক্তিশালীকরণ এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।