ডিজিটাল লেনদেন সহজ করতে বাংলাদেশে ‘ভিসা পেমেন্ট পাসকি’ সেবা চালুআগামী পাঁচ দিন পদ্মার পানি বাড়তে পারেদুপুরের মধ্যে ৯ অঞ্চলে ঝড়ের আভাসডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমানসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত
No icon

শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় দক্ষ, আদর্শবান ও জনসম্পৃক্ত নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে — অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঠাকুরগাঁও জেলা আয়োজিত ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মেলনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেছেন, শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা, জীবনমানের উন্নয়ন এবং ন্যায্য দাবি আদায়ে কাজ করা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব। ইসলামে শ্রমের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। তাই আরও দক্ষ,  নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে মন উজাড় করে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ১০টায় ঠাকুরগাঁও  কালীবাড়ি মির্জা রুহুল আমিন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, শ্রমিকদের জন্য কাজ করার সৌভাগ্য সবার জোটে না। ইসলাম শ্রমজীবী মানুষকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে। প্রতারক নেতাদের কারনে স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও দেশের অধিকাংশ শ্রমিকের জীবনমানের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি।
শ্রমিক আন্দোলনের আদর্শ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এক শ্রেণির শ্রমিক নেতা ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও, লড়াই কর’—এ ধরনের স্লোগানের মাধ্যমে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ করে ইসলামবিরোধী সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে। অন্যদিকে ইসলাম শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার শিক্ষা দেয়।
ইসলামী শ্রমনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মহানবী (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, ‘শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি পরিশোধ করো’ এবং ‘তোমরা যা খাও, তাদেরও তা খেতে দাও।’ ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়ন ছাড়া শ্রমিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
শ্রমিক নেতৃত্ব প্রসঙ্গে প্রধান অতিথি বলেন, শ্রমিকদের নামে রাজনীতি করে প্রতারণা ও চাঁদাবাজি করা অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রকৃত শ্রমিক নেতা কখনো শ্রমিককে ব্যবহার করে নিজের স্বার্থ হাসিল করেন না,
 বরং শ্রমিকের সমস্যা সমাধানে সর্বাগ্রে এগিয়ে যান।
সংগঠন শক্তিশালী করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ১৯৬৮ সাল থেকে শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে। দীর্ঘ এ পথচলায় নানা সময় মামলা, হামলা ও প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবুও সংগঠন তার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়নি। শ্রমিকের আস্থা অর্জন করে তাদের দুঃখ-কষ্ট ও বাস্তবতা উপলব্ধি করে কাজ করতে হবে।
দক্ষ নেতৃত্ব গঠনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ ও আদর্শবান হতে হবে। হীনমন্যতা কিংবা দ্বিধা-দ্বন্দ্ব নিয়ে শ্রমিক আন্দোলনে সফল হওয়া সম্ভব নয়। শ্রম আইন, ট্রেড ইউনিয়ন ব্যবস্থা, শ্রমনীতি, যৌথ দরকষাকষি (Collective Bargaining) এবং শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাস সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন অপরিহার্য। শ্রমিকের সমস্যা ও বাস্তবতা না বুঝে প্রকৃত নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব নয়।
ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। আগামী পাঁচ বছর সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার উপযুক্ত সময়। দক্ষতা, সততা, যতটুকু আছে তা উজাড় করে দিয়ে শ্রমিক আন্দোলনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে হবে।

পরিশেষে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি তিনটি বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রথমত, নিজেদের শ্রমিকবান্ধব নেতা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে এবং শ্রমিক ময়দানের বাস্তবতা গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও সামর্থ্য সংগঠনের কাজে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগাতে হবে। তৃতীয়ত, ট্রেড ইউনিয়ন, শ্রমিক অধিকার, যৌথ দরকষাকষি ও শ্রম আইন সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান অর্জন করে দক্ষ নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী, উপদেষ্ঠা মাওলানা আব্দুল হাকিম এবং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ড. জিয়াউল হক।
ঠাকুরগাঁও জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি  মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে  আরও উপস্থিত ছিলেন  জেলা শ্রমিক কল্যাণের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যক্ষ বেলাল উদ্দিন প্রধান,
 জামায়াতে ইসলামী  জেলা সেক্রেটারি মো. আলমগীর হোসেন সহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।