লেনদেন শুরুর পরই পুঁজিবাজারে বড় দরপতননেইমার ঝলকে ব্রাজিলের জয়বিশ্বজুড়ে করেনা তান্ডবে আরও ১০ হাজার মৃত্যুবিশ্বকাপে মুখোমুখি বাংলাদেশ-ব্রাজিলব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান পেলেই খুলে ফেলা হবে মোটর
No icon

ঢাকায় ফিরছে মানুষ

উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য রাজধানীর প্রবেশপথ টঙ্গী সেতুর ওপারে যাত্রীবোঝাই বাস, মাইক্রোবাসগুলো ঘুরিয়ে দিচ্ছে পুলিশ। যাত্রীরা সেখানে নেমে জ্যেষ্ঠের খরতাপে ব্যাগ-বোচকা নিয়ে পৌনে এক কিলোমিটার হেঁটে সেতু পার হচ্ছেন। এমন দুর্ভোগে তারা ক্লান্ত, বিধ্বস্ত। সোমবার দুপুর ২টার দিকে ঢাকা ও গাজীপুর জেলার সীমানায় টঙ্গী সেতুর দুই পাড়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। লকডাউনের বিধিনিষেধ অমান্য করে যাত্রী পরিবহন করা ট্রাক ও পিকআপ চালকরা পুলিশ চেকপোস্টের আগেই যাত্রীদের নামিয়ে দিচ্ছেন। যাত্রীরা চেকপোস্ট ও সেতু পেরিয়ে ঢাকায় ঢুকে আবার ট্রাকে, পিকআপে উঠে যে যার গন্তব্যে যাচ্ছেন। তবে প্রাইভেটকারের যাত্রীদের এ কষ্ট নেই। তারা যেমন স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদের আগে ঢাকা ছেড়েছিলেন, ফিরছেনও সেভাবেই। পুলিশি বাধার সম্মুখীন হতে হয়নি। করোনা সংক্রমণে রোধে গত ৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া লকডাউনে দূরপাল্লার বাস, লঞ্চ ও ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। কিন্তু বিধিনিষেধ অমান্য করে ঈদের আগে গ্রামমুখী মানুষের ঢল নামে। মোবাইল অপারেটরদের হিসাবে প্রায় এক কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়েন ঈদের আগের ১০ দিনে। দূরপাল্লার যান বন্ধ থাকায় মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, ট্রাক, পিকআপ, অটোরিকশায় গাদাগাদি করে যে যেভাবে পেরেছেন গ্রামে গিয়েছেন ঈদ উদযাপন করতে।

শেষ বেলায় দূরপাল্লার বাসও চলেছে। ঈদের পর কর্মস্থলে ফেরার তাগিদে একই প্রক্রিয়ায় রাজধানীতে ফিরছেন মানুষ সড়কের মতো গতকাল যাত্রীর চাপ ছিল পদ্মা পারাপারের ফেরিতেও। তবে ঈদের আগের মতো ভিড় ছিল না। ফেরি চলাচল সীমিত এবং লঞ্চ-স্পিডবোট না চলায় হাজার হাজার যাত্রী পুলিশ পাহারা ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে পদ্মা পার হয়েছেন। সোমবার দুপুরে টঙ্গীর বাটা ফ্যাক্টরির সামনে দেখা যায়, পুলিশের কড়া পাহারা। ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, শেরপুর, জামালপুরসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বাস ও মাইক্রোবাসগুলোকে ঘুরিয়ে দিচ্ছে পুলিশ। লকডাউন চলাকালে এক জেলার গণপরিবহন অন্য জেলায় প্রবেশ করতে পারবে না- সরকারি এ নির্দেশনার কারণেই গাড়িগুলোকে ঢাকার দিকে যেতে দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার জাকির হাসান।

গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়ায় যাত্রীরা পড়েন বিপাকে। গাড়ি থেকে নেমে ঢাকার দিকে হাঁটা ধরেন তারা। কথা হয় ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থেকে আসা আনোয়ার কবিরের সঙ্গে। তিনি জানালেন, ঈদের আগে ১০ মে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বাড়ি গিয়েছিলেন ভেঙে ভেঙে। বুধবার থেকে তার অফিস খোলা। তাই চলে আসতে হয়েছে।আলম এশিয়া বাসে ফুলবাড়িয়া থেকে জনপ্রতি ৪০০ টাকা ভাড়ায় এসেছেন জয়দেবপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত। সেখান থেকে লোকাল বাসে এসেছেন টঙ্গী পর্যন্ত। পুলিশ গাড়ি আটকে নামিয়ে দিয়েছেন। তীব্র রোদ আর গরমে শিশুসন্তান অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এখন হেঁটে আবদুল্লাহপুর যাবেন। তারপর কিছু একটা দিয়ে রামপুরার বাসায় যাবেন।