আজ সচিবালয়ে অফিস করবেন তারেক রহমানশুরুতেই সরকার ও বিরোধী দলের টানাপোড়েনআজ চাঁদ দেখা গেলে কাল রোজাকে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেনপ্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান
No icon

শুরুতেই সরকার ও বিরোধী দলের টানাপোড়েন

নতুন সরকারের যাত্রার প্রথম দিনই সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধীদলীয় জোট। বিএনপি বলছে, সংবিধানে এখনও পরিষদের বিধান না থাকায় তারা শপথ নেয়নি। অন্যদিকে, বিরোধী জোট এই অবস্থানকে গণভোট ও জুলাই সনদের প্রতি অবজ্ঞা বলে আখ্যা দিয়েছে। এই জোট বলছে, গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হওয়ায় সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন বাধ্যতামূলক।জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, হ্যাঁ জয়ী হলে গণভোটের ব্যালটে বর্ণিত উপায়ে সংবিধান সংস্কারে নবনির্বাচিত এমপিরা ১৮০ কার্যদিবস মেয়াদি পরিষদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন।কিন্তু বিএনপির নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা গতকাল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। স্বতন্ত্র সাত এমপিও পরিষদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। বিপরীতে জামায়াত, এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস ও ইসলামী আন্দোলনের ৭৮ এমপি পরিষদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। নতুন এমপিদের শপথ পরিচালনা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।এদিকে, গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গতকাল হাইকোর্টে রিট হয়েছে। জামায়াতের একাধিক নেতার সন্দেহ, এতে বিএনপির হাত রয়েছে। ফলে আইনি পথেও বিরোধ তৈরি হয়েছে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে।

বিএনপি শপথ নেয়নি

গতকাল দুটি শপথের জন্য প্রস্তুতি নেয় সংসদ সচিবালয়। তবে শপথের আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ দলীয় এমপিদের উদ্দেশে বলেন, আমরা কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হইনি। তাই পরিষদ সদস্য হিসেবে শপথ নিচ্ছি না।এমপিদের উদ্দেশে সালাহউদ্দিন বলেন, পরিষদ এখনও সংবিধানে ধারণ করা হয়নি। গণভোটের রায় অনুযায়ী, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হলে তা সংবিধানে আগে ধারণ করতে হবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের কে শপথ পাঠ করাবেন, এই বিধান করতে হবে।সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সংসদে গৃহীত হওয়ার পর সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ নেওয়ার বিধান করা যাবে। আমরা সংবিধান মেনে এ পর্যন্ত চলছি এবং আশা করি, সামনের দিনেও চলব।
এমপিদের সাদা রঙের কাগজে সংসদের শপথপত্র দেওয়া হয়। নীল রঙের কাগজে দেওয়া হয় পরিষদের শপথপত্র। বিএনপির এমপিরা শপথ না নিয়ে নীল রঙের কাগজ চেয়ারে রেখে যান।

জামায়াত জোটের শপথ

বিএনপির এমপিদের শপথের পর বিরোধীদলীয় ও স্বতন্ত্র এমপিরা শপথ নেন। দেরিতে আসা বিএনপির এমপি ইশরাক হোসেনও তাদের সঙ্গে শপথ নেন। এরপর শপথ নেন এনসিপির নবনির্বাচিত ছয় এমপি। বিরোধী জোটের এমপিরা সংসদ সদস্যের শপথ গ্রহণের পর পরিষদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পরিচালনায়। এ সময় স্বতন্ত্র এমপিরা এবং ইশরাক হোসেন শপথ কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।এর আগে সংবাদমাধ্যমে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের বরাতে খবর ছড়ায়, বিএনপির এমপিরা পরিষদ সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় বিরোধী জোটের এমপিরা শপথ নেবেন না। তবে এই ভাষ্যকে নাকচ করে তিনি বলেন, এমন কোনো কথা হয়নি। জামায়াত জোটের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এমপিরা দুটি শপথ নেবেন। বিএনপি পরিষদের শপথ নিয়ে জুলাই আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে; গণভোটের রায়কে অসম্মান করেছে।শপথের পর সালাহউদ্দিন আহমেদ সংসদ থেকে বেরিয়ে বলেন, বিএনপি জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলবে।বিএনপি পরিষদের শপথ না নেওয়ায় প্রতিবাদে এনসিপি সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান বয়কট করে। তবে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান এতে যোগ দেন। শপথ বর্জন করা এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, গণভোটে জনরায়ের সঙ্গে প্রতারণা করে শপথ নিতে যাচ্ছে সরকার।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বিএনপি দুটি শপথ না নিলে সংসদে যাওয়াই তো অর্থহীন। গণভোটের রায় না মানলে জুলাই সনদের থাকে কী?

ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, শপথ না নিয়ে গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রথম দিনেই বিএনপি জনরায়কে উপেক্ষা করার খারাপ দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। এখন কী হবে গত ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ওপর গণভোট হয়েছে। ৬৮ শতাংশ ভোটার হ্যাঁ ভোট দিয়েছেন। গত ১৩ নভেম্বর জারি করা এই আদেশ অনুযায়ী, হ্যাঁ ভোট জয়ী হওয়ায় যিনি এমপিদের শপথ পাঠ করাবেন, তাঁর কাছে পরিষদ সদস্যদের শপথ নিতে হবে। ৩০ দিনের মধ্যে পরিষদের সভা আহ্বান করতে হবে।বিএনপি শপথ না নেওয়ায় পরিষদের ভবিষ্যৎ কী, তা স্পষ্ট নয়। সাবেক ঐকমত্য কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত বিরোধ তৈরি হলো। জনগণের সার্বভৌম অভিপ্রায়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি হয়েছে। জনগণ তা গণভোটে অনুমোদন করেছে। আদেশের ৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এমপিদের পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা। শপথ না নেওয়ার মাধ্যমে জটিলতা তৈরি হলো।সনদে সংবিধান-সংক্রান্ত ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে। এর ১৩টিতে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। জামায়াতের নোট অব ডিসেন্ট ছিল সাতটিতে। বিএনপির অবস্থান ছিল, যেসব প্রস্তাবে তারা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে, নির্বাচনে জয়ী হলে সেগুলো নোট অব ডিসেন্ট অনুযায়ী বাস্তবায়ন করবে। জামায়াত-এনসিপির দাবি ছিল, সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন।এই বিরোধে গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত গত ১৭ সেপ্টেম্বর। এরপর সনদের বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে গত অক্টোবরে ছয় কার্যদিবস সংলাপ চালায় ঐকমত্য কমিশন। সেখানেই সিদ্ধান্ত হয়, সংসদের গাঠনিক ক্ষমতা না থাকায় গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারে নবনির্বাচিত এমপিদের নিয়ে পরিষদ গঠন করা হবে।