শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধাএকুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানালেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীঅমর একুশে আজসারাদেশে গ্যাস সংকট, রমজানে দুর্ভোগঢাকার তাপমাত্রা নিয়ে দুঃসংবাদ
No icon

সারাদেশে গ্যাস সংকট, রমজানে দুর্ভোগ

মগবাজারের চেয়ারম্যান গলির বাসিন্দা সামান্তা রহমান। গত প্রায় চার মাস ধরে তাঁর বাসায় দিনের বেলা গ্যাস থাকে না। রাতে কিছুটা পাওয়া গেলেও চাপ থাকে না। শুধু তাঁর বাসা নয়, পুরো এলাকাতেই এমন সমস্যা।সামান্তা গতকালবলেন, দিনে গ্যাস থাকেই না। এতদিন কোনো রকমে কাটানো গেলেও রোজায় অসহনীয় ভোগান্তিতে পড়েছি। ইফতার ও সাহ্রি দুই সময়ের খাবার তৈরি করতে হিমশিম খাচ্ছি। শেষ পর্যন্ত আজকে (শুক্রবার) ইলেকট্রিক চুলা কিনেছি।শুধু মগবাজারই নয়, ঢাকাসহ দেশের একটা বড় অংশে পাইপলাইনের গ্যাসের প্রচণ্ড স্বল্পচাপ বিরাজ করছে। দিনের বেশির ভাগ সময় চুলায় আগুন জ্বলছে না। কোথাও আবার অল্প আঁচে টিমটিম করে জ্বললেও রান্না করতে লাগছে দ্বিগুণ সময়। এই সংকটের মধ্যেই বিকল্প হিসেবে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দিকে ঝুঁকছেন অনেকে। সেখানেও চলছে নৈরাজ্য। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪০০-৫০০ টাকা বেশি দিয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।

বনশ্রীর ব্লক-ডি এলাকার বাসিন্দা নাহিদ হাসান জানান, মাঝ রাতে গ্যাস আসে। তখন সাহ্রির রান্না করতে হয়। এরপর সারাদিন চুলা জ্বলে না। ইফতারি বাইরে থেকে কিনে খেতে হচ্ছে। রাজধানীর মিরপুর ১০-এর বি-ব্লকের বাসিন্দা মাকসুদুর রহমান বাচ্চু বলেন, গত চার মাস ধরে গ্যাস সংকটের মধ্যে আছি। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত গ্যাস থাকে না। রান্না নিয়ে খুব সমস্যা হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখার সময় তিন ঘণ্টা বাড়িয়েছে জ্বালানি বিভাগ। পাশাপাশি নতুন সরকার সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি খাতে ১০০ দিন এবং পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেওয়াজ পারভেজ গতকাল শুক্রবার রাতে সমকালকে বলেন, গ্যাসের স্বল্পচাপের মূল কারণ হলো সরবরাহ কম। শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়ালে বিদ্যুতে কম পড়ে। বিদ্যুতে দিলে আবাসিকে টান পড়ে।শাহনেওয়াজ পারভেজ বলেন, দেশে দৈনিক ৪০০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হয় ২৬০ কোটি ঘনফুট। উৎপাদন বাড়ানো ছাড়া গ্যাসের ঘাটতি মেটানোর আর কোনো উপায় নেই। এলপিজির বাজারে নৈরাজ্য পাইপলাইনে গ্যাস না থাকায় অনেক পরিবার এলপিজির দিকে ঝুঁকছে। সেখানেও চলছে বিশৃঙ্খলা। জানুয়ারি মাসজুড়ে সারাদেশে সিলিন্ডার গ্যাসের তীব্র সংকট ছিল। এখন তা খানিকটা কমলেও দামের নৈরাজ্য রয়ে গেছে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা খালিদ হোসেন বলেন, গত মাসে তিন দিন ঘুরে ১২ কেজির সিলিন্ডার ২৪০০ টাকায় কিনতে হয়েছিল। গত সোমবার সেটি ১৮০০ টাকা নিয়েছে। যদিও সরকার নির্ধারিত দাম ১৩০৬ টাকা।জানুয়ারিতে এক লাখ ৬৭ হাজার টন এলপিজি আমদানির পরিকল্পনা করেছিল বিগত অন্তর্বর্তী সরকার। বাস্তবে এসেছে এক লাখ পাঁচ হাজার টন। ফেব্রুয়ারিতে এক লাখ ৮৪ হাজার টন আমদানির লক্ষ্য ধরা হয়েছে। তবে বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় রয়েছে।সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সারি গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে রাজধানীর সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও। পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় স্টেশনগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও চালকরা চাহিদার অর্ধেক গ্যাস পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।রাজধানীর মগবাজার, মহাখালী, রামপুরা ও আশপাশের এলাকায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোর বাইরে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। পাম্প মালিকরা জানান, কমপ্রেসার চালু রেখেও পর্যাপ্ত গ্যাস তোলা যাচ্ছে না। এতে একদিকে গ্রাহক ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে ফিলিং স্টেশনগুলো। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকরা। অনেক ক্ষেত্রেই সিলিন্ডার অর্ধেক খালি রেখেই ফিলিং স্টেশন ছাড়তে হচ্ছে। দিনের মধ্যে একাধিকবার লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস নিতে হচ্ছে।