জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের হাতে সুযোগ আছে: সিপিডিঈদ উপলক্ষে এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা রাখার নির্দেশখুব শিগগিরই শেষ হবে ইরান যুদ্ধ: ট্রাম্প‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রীতাপমাত্রা নিয়ে নতুন তথ্য
No icon

তেল নিয়ে দুর্ভোগ কমেনি, পাম্পে এখনও দীর্ঘ লাইন

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে দেশের জ্বালানি তেলের বাজারে সৃষ্ট অস্থিরতা এখনও কাটেনি। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্পের সামনে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন গতকাল সোমবারও দেখা গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে তেল কিনতে হচ্ছে। তেল সংকটে বিভিন্ন এলাকায় স্পিডবোট চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সংকট ঘিরে পাম্পগুলোতে মারামারিও হচ্ছে। গতকাল সিলেট নগরীর একটি পাম্পের কর্মীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এ হামলার প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত সিলেট বিভাগের সব পাম্পে প্রতীকী ধর্মঘট ডাকা হয়েছে।তবে সরকার দাবি করছে, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই; কৃত্রিম সংকট তৈরি করার চেষ্টা হচ্ছে। পরিস্থিতি সামলাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে সরকার। এদিকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এশিয়ার বাজারে গতকাল ক্রুড অয়েলের দাম পৌঁছেছে ১১৪ ডলারে। যুদ্ধ না থামলে এই দাম ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে এমন আশঙ্কা বাজার বিশ্লেষকদের। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য অশনিসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাম্পে গাড়ির লাইন কমছে না কয়েক দিন ধরে পেট্রোল পাম্প ঘিরে তেল নিতে অপেক্ষমাণ গাড়ি ও মোটরসাইকেলের যে দীর্ঘ লাইন ছিল, তা গতকালও দেখা গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের চালকরা। সাইফুল হক নামে একজন উবার মোটরসাইকেল চালক জানান, দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ২৫০ টাকার তেল কিনতে পেরেছেন।

চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ স্পিডবোট চলাচল বন্ধ জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ নৌরুটে স্পিডবোট চলাচল অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে। গতকাল সকাল থেকে কুমিরা-গুপ্তছড়া ঘাটে কোনো স্পিডবোট চলাচল করেনি। তবে কাঠের বোট (ট্রলার), ফেরি এবং বিআইডব্লিউটিসির জাহাজ এমভি মালঞ্চ চলাচল করছে। এই রুটের প্রায় ৯০ শতাংশ যাত্রী স্পিডবোটে যাতায়াত করেন। হঠাৎ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।বাড়তি তেল কেনায় মজুতে টান দেশজুড়ে জ্বালানি তেল নিয়ে কাড়াকাড়ি হলেও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছর তেল বিক্রি বেড়েছে। গত বছর মার্চ থেকে জুন মাসে দিনে গড়ে ১২ হাজার লিটার ডিজেল বিক্রি হয়েছে। চলতি মাসের ১ থেকে ৭ তারিখ দিনে গড়ে ১৭ হাজার ৮৯৯ লিটার ডিজেল বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ মার্চ মাসের প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬ টন ডিজেল বেশি বিক্রি হয়েছে। এছাড়া অকটেন দিনে ৩৭৭ টন, পেট্রোল ৩৫২ টন বেশি বিক্রি হয়েছে।বিপিসির গত রোববারের তথ্য অনুসারে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেলের ১৩ থেকে ৭১ দিনের চাহিদা পূরণের মতো মজুত রয়েছে। ডিজেলের মজুত রয়েছে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টন, যা দিয়ে ১৩ দিন চাহিদা মেটানো সম্ভব। অকটেন রয়েছে প্রায় ২৩ হাজার টন, যা ২৫ দিন চলবে। পেট্রোলের মজুত রয়েছে প্রায় ১৮ হাজার টন, যা দিয়ে ১৭ দিন সরবরাহ করা সম্ভব।
বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মজুতে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে দেশে তেলভিত্তিক বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মজুত জ্বালানি দিয়ে সর্বোচ্চ আগামী ১০ এপ্রিল পর্যন্ত উৎপাদন সম্ভব বলে জানিয়েছে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন (বিআইপিপিএ)। গতকাল সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি ডেভিড এ তথ্য জানান। এ সময় সাবেক সভাপতি ইমরান করিম উপস্থিত ছিলেন। ইমরান করিম বলেন, প্রায় সাত দিন আগে পর্যন্ত বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে মোট ১ লাখ ৩০ হাজার টন জ্বালানি তেল মজুত ছিল। এর মধ্যে দুই থেকে তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাছেই প্রায় ৫৫ হাজার টন তেল রয়েছে। বাকি তেল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে ছড়িয়ে রয়েছে। কোথাও হয়তো এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত তেল থাকবে।