মালয়েশিয়া সফর শেষে গতকাল সোমবার চীন গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৫ মিনিটে চীনের দালিয়ানে ঝুশুইজি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। আজ মঙ্গলবার দালিয়ানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।গতকাল বিকেল ৫টায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিশেষ ফ্লাইটে দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। লিয়াওনিং প্রদেশের ভাইস গভর্নর এবং চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ঝুশুইজি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণীকে স্বাগত জানান। বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে হোটেল শাংগ্রি-লায় নিয়ে যাওয়া হয়। অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দালিয়ানে দুদিন কর্মব্যস্ত থাকবেন। এরপর তিনি চীনের রাজধানী বেইজিং যাবেন। সেখানে রাষ্ট্রীয় সফরের মূল কর্মসূচি শুরু হবে।
প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ দিনের এই সরকারি সফরে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক, বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরামে যোগদান এবং কয়েকটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও অ্যালোইস জুইংগির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ হওয়ার কথা। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। বিকেলে দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জলবায়ু নেতৃত্ব শীর্ষক অধিবেশনে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে চীনের স্টেট কাউন্সিলের প্রধানের আয়োজনে সংবর্ধনায় তাঁর যোগ দেওয়ার কথা।
আগামীকাল বুধবার বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সামার ডাভোস নামে পরিচিত নিউ চ্যাম্পিয়ন্স -এর ১৭তম বার্ষিক সভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এতে বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময়ের সুযোগ থাকবে। একই দিনে চীনের রেলওয়ে, সড়ক ও সেতু নির্মাণ এবং যন্ত্রপ্রকৌশল খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। দুপুরে হাই-স্পিড ট্রেনে দালিয়ান থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হয়ে সন্ধ্যায় সেখানে পৌঁছাবেন তিনি।
বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ
বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরামে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রায় ১০০ বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধির উপস্থিতিতে এ আয়োজনে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণের নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হবে। এদিন চীনের বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠী ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকেরও পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে চেরি গ্রুপ, হান্ডা গ্রুপ এবং চায়নাটেক্স করপোরেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
হতে পারে ১০ এমওইউ
আগামী বৃহস্পতিবার বিকেলে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকের পর উভয় দেশের মধ্যে প্রায় ১০টি সমঝোতা স্মারক সই ও বিনিময়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর চীনা প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় অংশ নেবেন তারেক রহমান।
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক শুক্রবার
আগামী শুক্রবার সকালে ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে সাক্ষাতের পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন কৌশলগত বিষয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ দিন তিনি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির জাদুঘর পরিদর্শন করবেন। পরে বিকেলে বেইজিং ড্যাক্সিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়ে রাতেই ঢাকায় পৌঁছানোর কথা প্রধানমন্ত্রীর।