১৩ জেলায় বৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্কতাচট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত ৩ উপজেলা সফর করবেন প্রধানমন্ত্রীপ্রথম শ্রেণির ভর্তিতে লটারিই থাকছেবিরোধী দল ছাড়াই শুরু হচ্ছে সংবিধান সংশোধনের কাজবৃষ্টি ঝরবে আগামী কয়েক দিন, শঙ্কা বন্যা পরিস্থিতির
No icon

গুমের তদন্ত করবে পুলিশ, সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড

গুমের অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ভুক্তভোগী ব্যক্তির পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া যাবে। দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পদ না থাকলে সরকার ক্ষতিপূরণ দেবে। এ ছাড়া গুমের ঘটনা তদন্ত করবে পুলিশ। এমন বিধান রেখে আইন মন্ত্রণালয়ের যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬ -এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে তদন্ত এবং ১২০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার বিধানও প্রস্তাবিত এই আইনের খসড়ায় রাখা হয়েছে। গুমের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। গুমের কারণে কারও মৃত্যু হলে, মরদেহ পাওয়া গেলে অথবা পাঁচ বছর পার হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হলে আসামিকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সাজা এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধানও খসড়া আইনে প্রস্তাব করা হয়েছে।গতকাল সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৫তম বৈঠকে আইনটির খসড়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। মন্ত্রিসভার বৈঠকে সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন-২০২৬-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার পাশাপাশি অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা ২০২৬ এবং ঔষধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ২০২৬ বাতিলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সর্বসাধারণের মতামতের জন্য গত ২৭ জুলাই গুম প্রতিরোধ আইনের খসড়াটি প্রকাশ করে। এরপর ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে মতামত পাঠাতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়। এরপর সংশ্লিষ্টরা ইমেইলে মতামত পাঠিয়েছেন। এদিকে গুম প্রতিরোধ আইনের খসড়ার ওপর মতামত দিতে মাত্র এক দিন সময় দেওয়াকে প্রহসন আখ্যায়িত করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এই সময়সীমা বাড়িয়ে অন্তত দুই সপ্তাহ করার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। গত বুধবার টিআইবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট অংশীজনের কার্যকর সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা এবং মতামত দেওয়ার সময় কমপক্ষে দুই সপ্তাহ সময় প্রয়োজন বলে মনে করছে টিআইবি। সময় বাড়ানোর পর যেসব সুপারিশ পাওয়া যাবে, তার আলোকে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রক্রিয়ায় খসড়াটি ঢেলে সাজানোর দাবিও জানিয়েছিল সংস্থাটি। এর মধ্যে গতকাল এই আইনের খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

গুমের তদন্ত করবে পুলিশ অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশে গুমের তদন্তের দায়িত্ব জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে দেওয়া হলেও প্রস্তাবিত গুম প্রতিরোধ আইনে সেই দায়িত্ব পুলিশকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পুলিশ অভিযোগ না নিলে ভুক্তভোগীর পক্ষে যে কেউ এখতিয়ারভুক্ত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপস্থিত হয়ে নালিশি মামলা করতে পারবেন। গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মিনারা নাজমীন গতকাল  বলেন, তদন্তের বিষয়ে সর্বশেষ কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেটা আমার জানা নেই। এ বিষয়ে আপনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হাফিজ-আল-আসাদ বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই গুম আইন চূড়ান্ত করা হয়েছে। ফলে এ বিষয়ে কিছুই জানি না। মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, এই আইনের বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করব না। সুরক্ষা শব্দটি বাদ অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গত বছর ২৮ আগস্ট উপদেষ্টা পরিষদের সভায় গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ -এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। একই বছর ৬ নভেম্বর গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা অধ্যাদেশের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই দিনই গুমের অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রেখে অধ্যাদেশ জারি করা হয়। তবে নতুন আইনে সুরক্ষা শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে। গুমসংক্রান্ত আইনের খসড়ার বিষয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, তাদের (গুমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার) জন্য সরকারি আইনগত সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠন এবং দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে; তা সম্ভব না হলে রাষ্ট্র কর্তৃক ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রস্তাবিত আইনটিতে গুম হওয়া ব্যক্তিকে উদ্ধারের জন্য আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারি, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার, ডিজিটাল সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা এবং সাক্ষী, অভিযোগকারী, তথ্য প্রকাশকারী ও ভুক্তভোগীর গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।