দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তের প্রায় ৬০০ কিলোমিটার জুড়ে এখন বিরাজ করছে এক অভেদ্য নিরাপত্তা বলয়। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর যশোর রিজিয়ন এক বিশেষ প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বর্তমান অস্থির জ্বালানি বাজার পরিস্থিতি এবং আসন্ন উৎসবের নিরাপত্তায় তাদের নেওয়া প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।
কুষ্টিয়া থেকে খুলনা পর্যন্ত বিস্তৃত স্থলসীমান্ত এবং সুন্দরবনের গহীন জলসীমানায় চোরাচালান ও অবৈধ মজুদ ঠেকাতে বিজিবির টহল এখন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে গত মাস থেকে শুরু হওয়া জ্বালানি তেলের রেশনিং ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে কেউ যাতে সীমান্ত দিয়ে তেল পাচার করতে না পারে, সেজন্য বেনাপোল, ভোমরা ও দর্শনা স্থলবন্দরে শুরু হয়েছে বিশেষ তল্লাশি অভিযান।
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যশোর ও খুলনা সেক্টরের অধীনে থাকা ৭টি ব্যাটালিয়ন বর্তমানে প্রতিদিন অন্তত ৪৬৪টি টহল পরিচালনা করছে। সীমান্তবর্তী এলাকার ২২টি তেল পাম্পকে রাখা হয়েছে বিশেষ নজরদারিতে, যাতে কোনো কৃত্রিম সংকট বা পাচারের অপচেষ্টা সফল না হয়। এখন পর্যন্ত ২৩২৫টি বিশেষ টহল এবং ৮৯৯টি চেকপোস্টের মাধ্যমে সন্দেহভাজন প্রতিটি যান তল্লাশি করা হচ্ছে। কেবল সীমান্ত রক্ষাই নয়, স্থানীয় মানুষের সচেতনতা বাড়াতে বিজিবি এ পর্যন্ত ৮৬৮টি মতবিনিময় সভা করেছে। এসব তৎপরতার একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর সাথে পরিচালিত টাস্কফোর্স অভিযানকে, যেখানে অবৈধ তেল জব্দসহ একজনকে সাজা ও জরিমানা প্রদান করা হয়েছে।
আসন্ন পহেলা বৈশাখ ও পবিত্র ঈদুল আজহার কথা মাথায় রেখে বিজিবির এই তৎপরতা আরও সুদূরপ্রসারী করা হয়েছে। সীমান্তে গবাদিপশুর অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং দেশের চামড়া পাচার রোধে বিজিবি সদস্যরা এখন সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছেন।
চলতি ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেই যশোর রিজিয়ন প্রায় ৫৯ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে, যার মধ্যে স্বর্ণ, হীরা ও অস্ত্রের মতো মারাত্মক সরঞ্জাম রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রেখে এ বছর এরই মধ্যে ২২ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের মাদক উদ্ধার করা হয়েছে।
বিজিবির প্রতিটি স্তরে এখন প্রতিধ্বনিত হচ্ছে মহাপরিচালকের মূলমন্ত্র “বিজিবি হবে সীমান্তে নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক”। সংস্থার পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, সীমান্ত সুরক্ষা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবি সর্বদা দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে কেবল বাহিনী নয়, বরং স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণই পারে একটি নিরাপদ সীমান্ত নিশ্চিত করতে।
বিজিবির নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মো. শাহরিয়ার রাজিবের প্রেরিত এই বার্তায় স্পষ্ট করেছে, দেশের সম্পদ রক্ষায় কোনো প্রকার আপোস করবে না সীমান্তরক্ষী বাহিনী।