বর্তমানে ভঙ্গুর সামষ্টিক অর্থনীতি ও বিনিয়োগে স্থবিরতা বিরাজ করছে। এমন অবস্থায় নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যবসায়ীদের আস্থা পুনরুদ্ধার। মূল্যস্ফীতির চাপ, ডলার-সংকট, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা এবং যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক-অনিশ্চয়তা মিলিয়ে বাণিজ্য পরিবেশ এখন বহুমাত্রিক ঝুঁকির মুখে। এই প্রেক্ষাপটে সরকার স্পষ্ট বার্তা দিতে চায় নীতিগত স্থিতিশীলতা ও আলোচনার মাধ্যমে আস্থা ফিরিয়ে এনে বাণিজ্যে গতি বাড়ানো।সে লক্ষ্যেই আজ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশের অর্থনীতির সামগ্রিক পরিস্থিতি, রপ্তানি-আমদানি প্রবণতা, বাজার ব্যবস্থাপনা ও বৈদেশিক বাণিজ্য ঝুঁকি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বৈঠকে। উপস্থিত থাকবেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, সচিবসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের মতামত নিয়ে বাস্তবসম্মত নীতিগত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর চেষ্টা থাকবে।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বুধবার বৈঠক করবেন। সেখানে দেশের অর্থ ও বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হবে। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক নিয়ে আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে শুল্ক কাঠামোয় অনিশ্চয়তা। শুল্কের এ রকম অনিশ্চয়তার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য কঠিন। যুক্তরাষ্ট্রে ব্র্যান্ড-ক্রেতারা শুল্কহার নিয়ে এত অনিশ্চয়তায় থাকলে কীসের ভিত্তিতে দর নির্ধারণ করবেন। শুল্ক হার যাই হোক না কেন, অনিশ্চয়তাই এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা।জানা গেছে, বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও কিছু কিছু পণ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। এতে মানুষের কষ্ট বেড়েছে। আর এতে বড় প্রভাব মিলবে মূল্যস্ফীতিতে। সে বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাজার যাতে নির্দিষ্ট মানুষের হাতে না যায় সে ব্যাপারে আমরা সজাগ আছি। কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে গুণগত পরিবর্তন আনতে কিছুটা সময় লাগবে, আশা করি জনগণ সে সময়টা আমাদের দেবে।
পাশাপাশি দীর্ঘ আট বছরের প্রক্রিয়া ও একাধিক মূল্যায়ন শেষে জাতিসংঘ সিদ্ধান্ত দিয়েছে, ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বের হবে। সে অনুযায়ী এখন হাতে সময় আছে মাত্র ৯ মাস। এলডিসি থেকে উত্তরণ হলে দেশের রপ্তানি খাতে প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ওষুধশিল্প বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। এ বিষয়ে ব্যবসায়ীরা ৩ থেকে ৬ বছরে পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবির প্রেক্ষিতে এলডিসি উত্তরণ পিছিয়ে দেওয়ার জন্য জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) কাছে আবেদন করেছে বাংলাদেশ। সে বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা করা হবে।অন্যদিকে বর্তমান সময়ের আলোচিত ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সই করা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ নিয়েও আলোচনা হবে। বৈঠকে এ বিষয়ে ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারকদের কাছে থেকে পরামর্শ নেওয়া হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে এখতিয়ার বলে বাংলাদেশের সঙ্গে পাল্টা শুল্ক চুক্তি করেছেন, সেটা ওই দেশের কোর্ট বাতিল করেছেন। পরবর্তী সময়ে তারা দুই দফা শুল্ক আরোপের কথা বলছে। যদিও সেটা এখনো পরিষ্কার নয়। যে কারণে চূড়ান্ত কিছু সিদ্ধান্ত নিতে কঠিন হয়ে পড়েছে। এ সংক্রান্ত সার্বিক বিষয় আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করতেই আজ বুধবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী।তৈরি পোশাকের নিট ক্যাটাগরির পণ্য উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, অসম চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেই সমাধান বের করতে হবে। যদিও শুল্ক কমায় রপ্তানিকারকরা বিশেষ সুবিধা পাবেন। তবে রাষ্ট্রের অসুবিধা কতটুকু তা বিবেচনায় নিতে হবে। এ জন্য আজকের বৈঠকে আলোচনা করা হবে।