→ কুরিয়ার সার্ভিস লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান খায়রুল আনাম→ দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিন বন্ধ থাকবে ব্যাংক→ চকবাজারের আগুন ৯ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে, শতকোটি টাকা ক্ষতির দাবি→ সচিব পদে পদোন্নতি পে‌লেন ৩ রাষ্ট্রদূত→ এইচএসসির ফল প্রকাশ কবে, জানা গেল
No icon

প্রবাসী আয়ের ৬০ শতাংশ আসছে পাঁচ দেশ থেকে

বাংলাদেশ থেকে কাজের সন্ধানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে মানুষ। তবে ঘুরেফিরে রেমিট্যান্সের বড় অংশ আসছে নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশ থেকে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রবাসীরা মোট ৮৫৯ কোটি ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে শীর্ষ পাঁচ দেশ থেকে এসেছে ৫০৯ কোটি ডলার। মোট রেমিট্যান্সের যা প্রায় ৬০ শতাংশ।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রবাসীরা ৭৫৮ কোটি ডলার দেশে পাঠান। সে বিবেচনায় প্রথম তিন মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ১০১ কোটি ডলার; যা ১৩ দশমিক ২৮ শতাংশ বেশি। চলতি মাসেও রেমিট্যান্স বাড়ার এই ধারা বজায় আছে। চলতি অক্টোবর মাসের ১১ দিনে প্রবাসীরা আরও ১১৭ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। আগের বছরের অক্টোবরের একই সময়ে যা ছিল ৯৯ কোটি ডলার। এ কয়েকদিনে রেমিট্যান্স বেড়েছে আরও ১৮ শতাংশের বেশি। এর আগের দুই অর্থবছর প্রবাসী আয়ে উচ্চ প্রবৃদ্ধির পর এভাবে রেমিট্যান্স বৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্বস্তি দিচ্ছে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি শ্রমিক থাকেন সৌদি আরব। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে দেশটি থেকে মোট ১৬৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। রেমিট্যান্স আহরণে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা যুক্তরাজ্য থেকে এসেছে ১২২ কোটি ডলার। তৃতীয় অবস্থানে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসেছে ৭৭ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। এর পরের অবস্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছে ৭৭ কোটি ৪৮ লাখ ডলার। পঞ্চম অবস্থানে থাকা মালয়েশিয়া থেকে এসেছে প্রায় ৬৭ কোটি ডলার। নতুন করে আলোচনায় এসেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। এ নিয়ে দুই দেশের সরকারের মধ্যে এরই মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে হুন্ডি ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নেয় সরকার। এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিগত ধারাবাহিকতা এখনও বজায় আছে। এর ফলে রেমিট্যান্স বাড়ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছর প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠান, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেমিট্যান্স বেড়েছিল ৬৪২ কোটি ডলার বা ২৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ। রেমিট্যান্সের এই উচ্চ প্রবৃদ্ধি ডলারের দর দীর্ঘদিন ধরে ১২৩ টাকায় রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দু্ই মাসে আমদানি ১২ দশমিক ২০ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে যেখানে রপ্তানি বেড়েছে ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এর মধ্যেও রেমিট্যান্সে ভালো প্রবৃদ্ধি থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখনও ৩৬ বিলিয়ন ডলারের ওপরে রয়েছে। গত ১১ অক্টোবর গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার। আর বিপিএম৬ অনুযায়ী ৩১ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার। গত জুনে অবশ্য গ্রস ৩৭ দশমিক ৫৮ এবং বিপিএম৬ অনুযায়ী ৩২ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলার হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় গ্রস ২৫ দশমিক ৯২ এবং বিপিএম৬ অনুযায়ী ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল। এর আগে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রথমবারের মতো ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে ২০২১ সালের আগস্টে। তবে পরে তা কমে ওই পর্যায়ে নেমে যায়।